রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এটার যদি আপনারা কোনো ধরনের বিচার ও ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে না নেন, তাহলে আমরা মনে করব—এটা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সবাই অবগত আছেন এবং সবাই এটার ভাগ পাবেন।”
রোববার দুপুরে নেতাকর্মীদের নিয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন শেষে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেওয়া হবে না এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যেই মা ও শিশুদের চিকিৎসা দেবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুদের চিকিৎসা, টিকাদানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধ, টিকা, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জামও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জনগণের স্বাস্থ্যসেবার একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন মানতে নারাজ। আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়ার অভিযোগ, “এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি), সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় পুলিশ সবার ঐক্যবদ্ধ এবং সংগঠিত একটা অপরাধ এটা। এটা রাষ্ট্রের কয়েকটা প্রতিষ্ঠানের সংগঠিত অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় একটা লুটতরাজ হয়েছে।”
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, ঘটনার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও ভাঙচুর শুরু হওয়ার পর সেখান থেকে রহস্যজনকভাবে চলে যায়। পরে ঘটনা শেষ হওয়ার পর পুলিশ সেখানে পরিদর্শনে আসে। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা করা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ঢাকা উত্তর সিটিতে এনসিপির মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ভাঙচুর ও লুটপাট করা স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে দখলদারদের টাঙানো সমমনা দোকানদার সমিতির সাইনবোর্ডও এ সময় অপসারণ করা হয়।


























