হার্ট অ্যাটাকের কথা শুনলেই সাধারণত মানুষের চোখের সামনে তীব্র বুকে ব্যথায় কাতর একজন রোগীর ছবি ভেসে ওঠে, অথচ বাস্তবে সব হার্ট অ্যাটাক এমন স্পষ্ট বা সাধারণ লক্ষণ নিয়ে প্রকাশ পায় না। বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার সংকেত হিসেবে শরীরের অন্য কিছু অস্বাভাবিক ও ভিন্নমুখী পরিবর্তন দেখা দিতে পারে, যা অনেক সময় সহজে বোঝা যায় না। কখনো বুকে ভার লাগা, কখনো শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, আবার কখনো পেটের অস্বস্তি বা বমিভাবের মতো সাধারণ মনে হওয়া উপসর্গগুলোও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে। তাই হঠাৎ করে শুরু হওয়া যেকোনো অস্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনকে শুধু গ্যাস, ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়, বরং চিকিৎসকদের মতে এ বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সাধারণত হার্ট অ্যাটাকের সময় বুকের মাঝখানে চাপ বা ভারী লাগার অনুভূতি হতে পারে। অনেক নারীর ক্ষেত্রেই চেপে ধরার মতো অনুভূতি কিংবা হালকা অস্বস্তি হয়, যা তীব্র ব্যথার মতো অনুভূত হয় না। ফলে এই ধরনের বুকের অস্বস্তিকে সাধারণ গ্যাসের সমস্যা ধরে নেওয়ার ভুল করা উচিত নয় এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষণগুলোর প্রতিও গভীর নজর দেওয়া প্রয়োজন। তাছাড়া হৃদ্যন্ত্রের সমস্যাজনিত অস্বস্তি কেবল বুকের মাঝখানেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং এই ব্যথা বা চাপ এক হাত কিংবা দুই হাতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। একই সঙ্গে পিঠ, ঘাড়, চোয়াল কিংবা পেটেও অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভূত হতে পারে। বিশেষ করে হঠাৎ করে এমন ব্যথা শুরু হলে এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো উপসর্গ যুক্ত হলে কালবিলম্ব না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া আবশ্যক।
নারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শারীরিক পরিশ্রম ছাড়াই আচমকা শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া হৃদ্যন্ত্রের মারাত্মক সমস্যার বড় একটি সংকেত হতে পারে। বুকের অস্বস্তির পাশাপাশি কিংবা বুকব্যথা ছাড়াও স্বাধীনভাবে এ ধরনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে, তাই একে সামান্য সমস্যা ভেবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়াও হার্ট অ্যাটাকের কিছু উপসর্গ এমন হতে পারে যেগুলোকে প্রথম দৃষ্টিতে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার সঙ্গে মেলাতে ভুল হয়। হঠাৎ করে বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, মাথা হালকা লাগা বা তীব্র দুর্বলতার মতো অনুভূতি এর মধ্যে অন্যতম। এর সঙ্গে ঠান্ডা ঘাম হওয়া কিংবা পুরো শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়ার অনুভূতিও থাকতে পারে। অনেক সময় মানুষ এসব লক্ষণকে অম্বল, সাধারণ শারীরিক দুর্বলতা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে হয়েছে বলে ভুল করে বসেন।
নারীদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণগুলো সবসময় একই রকম বা সুনির্দিষ্ট হয় না বলে শুধু তীব্র বুকের ব্যথার জন্য অপেক্ষা করলে চিকিৎসা নিতে বিপজ্জনক দেরি হতে পারে। তাই হঠাৎ করে বুকের চাপ বা অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ব্যথা, ঠান্ডা ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতার মতো একাধিক উপসর্গ যখন একসঙ্গে দেখা দেয়, তখন পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। যদিও এ ধরনের লক্ষণ হার্ট অ্যাটাক ছাড়াও অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় হতে পারে, তবুও হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়াটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে উপসর্গগুলো যদি হঠাৎ করে শুরু হয় অথবা খুব দ্রুত বাড়তে থাকে, তবে ঘরে বসে না থেকে অবিলম্বে জরুরি চিকিৎসাসেবা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।


























