নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রের ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের একটি সোর্স ব্রেকার ফল্ট করে বিকল হয়ে পড়ায় জেলা শহর মাইজদী ও আশেপাশের এলাকায় দিনভর তীব্র বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দেয়। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) প্রকৌশলীদের দিনব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার পর শনিবার সন্ধ্যায় নতুন ব্রেকার পুনস্থাপন এবং রাত সাড়ে আটটায় এটি সচল হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ৩৩ কেভি সোর্স ব্রেকারে আকস্মিক ত্রুটি দেখা দিলে ধোঁয়া নির্গত হয়। তবে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু এই ঘটনার পর চৌমুহনী থেকে মাইজদী উপকেন্দ্র পর্যন্ত ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
পিডিবি নোয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাইজদী উপকেন্দ্রের প্রধান ব্রেকার বিকল হওয়ার পর রিং সার্কিটের মাধ্যমে প্যারালালে অন্য একটি সোর্স ব্যবহার করে সাময়িকভাবে মাত্র ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছিল। অথচ জেলা শহর মাইজদীতে পিডিবির দৈনিক চাহিদা ২২ থেকে ২৫ মেগাওয়াট। অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় শনিবার দিনভর পুরো জেলা শহরে এক ঘণ্টা পর পর পর্যায়ক্রমে (রোটেশন ভিত্তিতে) লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, যা চরম জনভোগান্তির সৃষ্টি করে।
পিডিবির চৌমুহনী উপকেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাহাদাত ইসলাম জানান, চৌমুহনী গ্রিড উপকেন্দ্রে ৩৩ কেভি লাইনের সোর্স ব্রেকার বিকল হলে মাইজদী ও আশেপাশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানদের দিনভর চেষ্টার পর শনিবার সন্ধ্যায় নতুন ব্রেকার স্থাপন করে রাতে সরবরাহ সচল করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে পুরো লাইনে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক ধারায় ফিরে এসেছে।
পিডিবি নোয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুল বাহার জানান, সোর্স ব্রেকারের পোল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ব্যবস্থায় মাইজদীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে শনিবার দিনের বেলা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মেরামতের কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছিল। কিন্তু সার্বিক প্রচেষ্টায় নতুন ব্রেকার বসিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।






















