গণমাধ্যমের কর্মী তথা সাংবাদিকরা সক্রিয় রয়েছেন বলেই দেশে গণতন্ত্র টিকে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো সাংবাদিকতা। বিশেষ করে অপরাধ বিষয় নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের (ক্রাইম রিপোর্টার) অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে দায়িত্ব পালন করতে হয় এবং অনেক সময় এর জন্য তাদের চরম মাশুলও গুণতে হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করে নেন যে, বাংলাদেশে সংবাদকর্মীসহ নানা পেশায় নিয়োজিত মানুষদের জন্য এখনো পর্যন্ত পর্যাপ্ত ও কার্যকর কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সম্প্রতি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি এই মন্ত্রণালয়ে যুক্ত হয়েছেন মাত্র ২০ দিন হলো। বিদ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থার সীমানার ভেতরে থেকেই বর্তমানে তাঁকে সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হচ্ছে, ফলে তিনি কতটা সফল হতে পারবেন তা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।
একই সাথে তিনি নিজের সহজলভ্যতার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, তিনি সবার জন্য অত্যন্ত সহজে অভিগম্য (ইজিলি অ্যাক্সেসেবল)। সাংবাদিকরা যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় তাঁকে পাশে পাবেন, সরাসরি তাঁর কাছে এসে মন খুলে নিজেদের নানা বিষয় জানাতে পারবেন। নিজের রাজনৈতিক পটভূমির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী জানান, গণমাধ্যমকর্মীদের জটিলতা ও সংকটগুলো তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা ১৫টি আলাদা দফতরকে নিজের পরিবারের সাথে তুলনা করে তিনি জানান, এগুলোর প্রতিটির দেখভাল ও অগ্রগতির দায়িত্ব তাঁর নিজের।
বিগত ১৭ বছরে দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, এমন একটি অবস্থা থেকে সব কিছুকে পুনরায় সঠিক জায়গায় ফিরিয়ে আনাই বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কোনো ফাঁকা জমিতে নতুন একটি দালান তোলা যতটা সহজ, কোনো পুরোনো জরাজীর্ণ ও ভাঙাচোরা ভবনকে সংস্কার করে পুনরায় দাঁড় করানো তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন কাজ। যেকোনো প্রয়োজনে সংবাদকর্মীদের সরাসরি তাঁর সাথে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, যখন যা প্রয়োজন মনে হবে, তা যেন তাঁকে জানানো হয়। সবাই মিলে আলোচনা ও চেষ্টার মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে এবং সরকার সংবাদকর্মীদের পাশে থাকবে। উক্ত আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ উপস্থিত ছিলেন। সভাটিতে সভাপতিত্ব করেন ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদী তমাল এবং সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্।






















