রাজধানীর মিরপুরে গভীর রাতের আঁধারে গুঁড়িয়ে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ধ্বংসস্তূপের মাঝেই শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রায় ৫২ বছর ধরে সুবিধাবঞ্চিত মা ও শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেলেও সেবাগ্রহীতাদের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে খোলা আকাশের নিচে অস্থায়ী ক্যাম্প করে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির তিনটি সেমিপাকা ও একটি পাকা ভবন বুলডোজার দিয়ে পুরোপুরি ভেঙে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। এর মধ্যেই ধ্বংসস্তূপের ঠিক বাইরে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করে হামের ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইনসহ নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি চালানো হচ্ছে। সকাল থেকেই মায়েরা তাদের শিশুদের কোলে নিয়ে টিকা দেওয়ার জন্য সেখানে ভিড় করছেন।
রাড্ডা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর একদল লোক এসে পুরো হাসপাতালে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় ভবনে থাকা মূল্যবান আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, এসি, ফ্রিজ, বিভিন্ন ধরনের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ও ভ্যাকসিন লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। শিশুদের টিকাদান সংক্রান্ত রেকর্ড সংরক্ষণের ট্যাব, রেজিস্টার খাতা ও পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রীও দুর্বৃত্তরা নিয়ে যায়। এতে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দেড় কোটিরও বেশি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, ‘কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা ছাড়াই মাত্র এক রাতের ব্যবধানে ৫২ বছরের একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। এটি কোনো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হতে পারে না। আমরা মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছি, এই ধ্বংসযজ্ঞ দেখে আমাদের হতবাক হওয়া ছাড়া আর কোনো ভাষা নেই।’
স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে শাহ আলী থানা মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত হলেও এই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় ধরে তাণ্ডব চালানো সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর নামে একটি ব্যানার ঝুলিয়ে জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে হাসপাতাল ভবনটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এবং সব সরঞ্জাম লুট হয়ে যাওয়ায় সেবাদান কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।






















