জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে পাঁচ দিনের সফর সম্পন্ন করে দেশের উদ্দেশে নিউইয়র্ক ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী এমিরেটসের একটি ফ্লাইট নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।
পাঁচ দিনের এই উচ্চপর্যায়ের সফরে প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় বক্তব্য প্রদান করেন। ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং রোহিঙ্গা সংকটের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বাংলাদেশের মূল অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশন’ (থ্রি-আর) কৌশল বৈশ্বিক দরবারে উপস্থাপন করেন।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, বিভিন্ন সংস্থার প্রধান এবং বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেন। এর মধ্যে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফ, থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচ এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি সফরের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং স্বাস্থ্য খাত পুনর্গঠনে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগসহ সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ঘোষণা। ম্যানহাটনে জেপিমরগানের সদর দপ্তরে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক ও কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর পাঁচ দিনের কূটনৈতিক সফর শেষ করেন।






















