জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ও সোজা ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র নয়; বরং দেশটি নিজেই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বড় শিকার। ট্রাম্প এর আগে ইরানকে ‘সন্ত্রাসবাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে আখ্যায়িত করার প্রতিক্রিয়ায় পেজেশকিয়ান বলেন, যারা অন্য দেশের ওপর অহেতুক বোমাবর্ষণ করে এবং নিরপরাধ মানুষ হত্যা করে, তারাই আসল সন্ত্রাসী। সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলায় দেশের ভেতরে প্রাণহানির কথা স্মরণ করে তিনি গত সাত মাস ধরে ইরানি জনগণের বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের প্রশংসা করেন।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পরিষ্কার করে জানান যে, দেশ কখনো পারমাণবিক বোমা বা মারণাস্ত্র বানানোর পক্ষে নয়। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন কিংবা চিকিৎসার মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের যে জন্মগত অধিকার তাদের রয়েছে, তা থেকে ইরান পিছু হটবে না। এ সময় তিনি বিশ্বরাজনীতির দ্বিমুখী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ইসরায়েলের মতো দেশের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও তাদের কোনো জবাবদিহি করতে হয় না, অথচ ইরানের ওপর লাগাতার নিষেধাজ্ঞার খড়্গ নামিয়ে আনা হয়। পাশাপাশি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা ও হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার পটভূমি তুলে ধরে তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। পরবর্তীতে পাল্টাপাল্টি হামলা ও মার্কিন সামরিক অবরোধের জবাবে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। পরিশেষে পেজেশকিয়ান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, হুমকি বা গায়ের জোর দেখিয়ে ইরানকে কখনোই দাবিয়ে রাখা যাবে না এবং পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শন করা হলে তেহরান যেকোনো আলোচনায় অংশ নিতে সর্বদা প্রস্তুত।























