সরকারের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের দাবি বা বক্তব্য আমলে না নেওয়া হলে রাজপথের কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমেই যাবতীয় রাজনৈতিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ের ফয়সালা করা হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারস্থ আলফালাহ মিলনায়তনে জামায়াত বিটের সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান ব্যক্ত করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনার সঙ্গে বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ লংমার্চকে জড়ানোর সরকারি বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন জামায়াত আমীর। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলের গণজোয়ার ও শান্তিপূর্ণ লংমার্চ বানচাল করার হীন উদ্দেশ্যেই মূলত পরিকল্পিতভাবে ককটেল ফুটিয়ে কৃত্রিম আতঙ্ক বা প্যানিক সিচুয়েশন তৈরি করা হয়েছে। লংমার্চের দাবিগুলো কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়, বরং এগুলো এ দেশের সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার আদায়ের দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্যদের আর্থিক সুবিধা বা বেতন-ভাতা বাড়ানোর যেকোনো ধরনের চিন্তাভাবনার তীব্র বিরোধিতা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, দেশের এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অন্যায় হবে এবং সরকার এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে চাইলে বিরোধী দল তা শক্তহাতে প্রতিহত করবে। এছাড়া সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান যে, এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ দেশীয় পণ্যের দামে সর্বগ্রাসী প্রভাব পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের পকেট থেকে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা চলে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে দেশের গুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন—জ্বালানি, সার, বিদ্যুৎ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে বিরোধী দলের দেওয়া নোটিশগুলোতে আলোচনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। সংসদের বাইরে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন যে, অনেক সময় কাটপিস বা অসম্পূর্ণ সংবাদ প্রকাশের কারণে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়। নিজের স্বচ্ছতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে, নির্বাচনের পর থেকে তিনি কোনো সরকারি খরচে বিদেশ ভ্রমণ করেননি এবং নিজের সরকারি বরাদ্দকৃত ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা জনকল্যাণে ব্যয় করে আসছেন।






















