ফরিদপুর শহরে অবৈধ ও মানহীন উপায়ে যৌন উত্তেজক ওষুধ, শিশুদের বেবি জেল এবং বিভিন্ন ধরনের আয়ুর্বেদিক সামগ্রী উৎপাদনের অভিযোগে এক রাজনৈতিক নেতাকে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. বায়েজিদ হোসেন শাহেদ (৪০) ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা হলেও তিনি বর্তমানে শহরের গোয়ালচামট এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।
গত মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে জেলা প্রশাসন ও ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃপক্ষ শহরের গোয়ালচামট এলাকায় অবস্থিত শাহেদের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জনতা ল্যাবরেটরিজ’ কারখানায় এক আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন বা সরকারি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই অবৈধ কার্যক্রম চলছিল। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কারখানাটি চালু রেখে সেখানে শিশুদের সংবেদনশীল বেবি জেল এবং বিভিন্ন ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরি করা হচ্ছিল। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আদালত এই রায় প্রদান করেন।
অভিযানকালে কারখানাটি থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ওষুধ, উৎপাদন সামগ্রী ও রাসায়নিক জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ইনসানা তানজীন ইকো জানান, অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে অভিযুক্ত শাহেদকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর রাতেই তাকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে দলীয় নেতার এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে এনসিপির ফরিদপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব সাইফ হাসান খাঁন গণমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, অন্যায়ের সঙ্গে তাদের দলের বিন্দুমাত্র আপস করার সুযোগ নেই। দলীয় কোনো সদস্য অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পুরো বিষয়টি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় কমিটিকে অবহিত করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


























