বালু দিয়ে নদী ভরাটের অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় দায়ের করা মামলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) মো. ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত সোহা মেসার্স মদিনার পথের মালিক মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডের পাশাপাশি ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মুক্তার হোসেন ও নাজমুল আলমকে পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও পনের দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের জামিন বাতিল করে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, রায়ে নদী ভরাট সংক্রান্ত খিলক্ষেত থানার মামলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজারকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও ৩০ দিন করে তাদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, এই নদী ভরাট কাজে যারা সরঞ্জাম দিয়েছেন, সেই কোম্পানির আরও দুজন—বালু বহনের কাজে ব্যবহৃত সোহা মেসার্স মদিনার পথের মালিক মোক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছরের করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাদের আরও পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ১৫ দিনের করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ ও মৃতপ্রায় নদীগুলো হাইকোর্টের এক রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ/সংস্থা দূষণ রোধ করে কতিপয় সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেন। নির্দেশনা পেয়ে বেশ কয়েকবার নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর টঙ্গী নদীবন্দরে বালু দিয়ে নদী ভরাটের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।






















