ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের বিধিমালা ও আচরণবিধিতে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিক্স পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালা, ২০১০’ সংশোধন করে এ গেজেট জারি করে। দীর্ঘ এক দশক পর এবার পুনরায় নির্দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী বছরের (২০২৭) শুরু থেকে কয়েক ধাপে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংশোধিত নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ এক লাফে আগের তুলনায় পাঁচ গুণ বাড়ানো হয়েছে। নতুন নিয়মে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে একজন প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও অতিরিক্ত জামানতের প্রয়োজন হবে না। প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া থেকে বাঁচাতে প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। জামানতের পাশাপাশি নির্বাচনি ব্যয়সীমাও সংশোধন করা হয়েছে; চেয়ারম্যান প্রার্থীর ক্ষেত্রে প্রচার-প্রচারণা ও নির্বাচনের সর্বোচ্চ ব্যয় ৫ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে ১২ ডিজিটের টিআইএন (TIN) সনদ ও আয়কর রিটার্নের কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় পদে নির্বাচন হওয়ায় সংশোধিত বিধিমালায় প্রার্থীদের জন্য পৃথক প্রতীক সংরক্ষণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ২০টি প্রতীক (কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস) নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এছাড়া সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি (উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ) এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য আসনের জন্য ১০টি (আলমিরা, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার) প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে কমিশনের ক্ষমতায় বড় ধরনের সম্প্রসারণ ঘটানো হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কমিশন সরাসরি প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। কোনো কেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন বা কারচুপির কারণে ভোট চরম পক্ষপাতদুষ্ট হলে উক্ত কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত বা সম্পূর্ণ নির্বাচন বাতিল করে নতুন করে ভোট নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে ইসি। শারীরিক বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভোটারদের সহায়তায় নিরপেক্ষ ব্যক্তির (কমপক্ষে ২১ বছর বয়সী) উপস্থিতির নিয়ম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা দিলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নতুন বিধান যুক্ত হয়েছে। ভোটের তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধি মনিটরিং করতে প্রতিটি এলাকায় বিশেষ মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে বলেও গেজেটে জানানো হয়েছে।






















