Dhaka ০৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সুতা আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশি উদ্যোক্তারা হুমকিতে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

বাংলাদেশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার আমদানি ক্রমশ বাড়ছে, যা ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকারী দেশি উদ্যোক্তাদের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন সক্ষমতাকে অব্যবহৃত রাখছে। স্থানীয় উৎপাদন লাইন বন্ধ থাকার কারণে পুরো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশি প্রাথমিক বস্ত্রশিল্পের উদ্যোক্তারা হুমকির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে, আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা এবং এটি স্থানীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডেটা (অ্যাসাইকুডা) অনুসারে, দেশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি গত দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই পণ্যের আমদানি ছিল ৩৫ কোটি ৮ লক্ষ কেজি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৬৯ কোটি ৭ লক্ষ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ওই বছরের আমদানি করা সুতার মূল্য ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

আরও তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট সুতা আমদানির বিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার অংশ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এর মানে হলো, যখন স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সংকটে রয়েছে, তখন একই সময়ে তুলনামূলক সস্তা বিদেশি সুতা দ্রুত দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর ফলে দেশি মিলের উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অলস পড়ে থাকছে।

সরকারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি প্রতিবেশী দেশ থেকে এইচএস হেডিং ৫২০৫-এর আওতায় সুতা আমদানি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রায় ২১ কোটি কেজি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৩ কোটি ১২ লক্ষ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। মাত্র দুই বছরে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫৬ শতাংশ। এই দ্রুত প্রবৃদ্ধিই দেশি সুতা উৎপাদকদের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দাবি, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলো কার্যকরভাবে চালু করা গেলে এই খাতেই প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার আমদানি কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব। সরকারের নির্বাচনি মেয়াদের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে, দেশি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সুতা আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশি উদ্যোক্তারা হুমকিতে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতার আমদানি ক্রমশ বাড়ছে, যা ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগকারী দেশি উদ্যোক্তাদের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন সক্ষমতাকে অব্যবহৃত রাখছে। স্থানীয় উৎপাদন লাইন বন্ধ থাকার কারণে পুরো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং দেশি প্রাথমিক বস্ত্রশিল্পের উদ্যোক্তারা হুমকির মুখে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে, আমদানি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা এবং এটি স্থানীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডেটা (অ্যাসাইকুডা) অনুসারে, দেশে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানি গত দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই পণ্যের আমদানি ছিল ৩৫ কোটি ৮ লক্ষ কেজি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৬৯ কোটি ৭ লক্ষ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। ওই বছরের আমদানি করা সুতার মূল্য ছিল প্রায় ২৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।

আরও তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে মোট সুতা আমদানির বিল প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার অংশ ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ। এর মানে হলো, যখন স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে সংকটে রয়েছে, তখন একই সময়ে তুলনামূলক সস্তা বিদেশি সুতা দ্রুত দেশের বাজারে প্রবেশ করছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এর ফলে দেশি মিলের উৎপাদন সক্ষমতার একটি বড় অংশ অলস পড়ে থাকছে।

সরকারি বিশ্লেষণে দেখা যায়, একটি প্রতিবেশী দেশ থেকে এইচএস হেডিং ৫২০৫-এর আওতায় সুতা আমদানি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রায় ২১ কোটি কেজি থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৫৩ কোটি ১২ লক্ষ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। মাত্র দুই বছরে এই বৃদ্ধির হার প্রায় ১৫৬ শতাংশ। এই দ্রুত প্রবৃদ্ধিই দেশি সুতা উৎপাদকদের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ।

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দাবি, আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশের বন্ধ ও আংশিকভাবে বন্ধ থাকা টেক্সটাইল কারখানাগুলো কার্যকরভাবে চালু করা গেলে এই খাতেই প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) তথ্য অনুযায়ী, ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতার আমদানি কমিয়ে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে বছরে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলার আমদানি ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব। সরকারের নির্বাচনি মেয়াদের এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে, দেশি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।