গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার ৮৩২ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, অভিযোগ রয়েছে যে ব্যাংকটির নিজস্ব নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই এদের মধ্যে ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের নিজ এলাকা চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এবং প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পেশ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৩২ জনে। জানা গেছে, তত্কালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী এবং বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জন প্রাথমিকভাবে এন্ট্রি লেভেলে এবং বাকি ৩,৯৯১ জন সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিযুক্ত হন।
ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। সাধারণত, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তিকেই নিয়োগের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তৎকালীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। সংশোধিত নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় উল্লেখ করা হয় যে, ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’।
তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে যে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছে।






















