Dhaka ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ম ভেঙে ৮,৫৪২ নিয়োগ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে

গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার ৮৩২ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, অভিযোগ রয়েছে যে ব্যাংকটির নিজস্ব নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই এদের মধ্যে ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের নিজ এলাকা চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এবং প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পেশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৩২ জনে। জানা গেছে, তত্কালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী এবং বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জন প্রাথমিকভাবে এন্ট্রি লেভেলে এবং বাকি ৩,৯৯১ জন সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিযুক্ত হন।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। সাধারণত, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তিকেই নিয়োগের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তৎকালীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। সংশোধিত নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় উল্লেখ করা হয় যে, ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে যে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ইসলামী ব্যাংকে নিয়ম ভেঙে ৮,৫৪২ নিয়োগ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১২:৪৮:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। এরপর ব্যাংকটিতে মোট ১০ হাজার ৮৩২ জন নতুন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে, অভিযোগ রয়েছে যে ব্যাংকটির নিজস্ব নিয়মাবলী লঙ্ঘন করে কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ বা লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই এদের মধ্যে ৮,৫৪২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশ এস আলম গ্রুপের সাইফুল আলমের নিজ এলাকা চট্টগ্রামের পটিয়ার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক নিরীক্ষায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে এবং প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পেশ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের মোট কর্মী সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৫৫১ জন। এর মধ্যে ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্তদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৮৩২ জনে। জানা গেছে, তত্কালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের সুবিধাভোগী এবং বর্তমানে পলাতক এস আলমের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে এই বিপুল সংখ্যক নিয়োগ সম্পন্ন হয়। এই সময়ে ৪৬৬ জনকে লেটারাল এন্ট্রি (সরাসরি উচ্চপদে নিয়োগ) এবং সরাসরি প্রবেশের মাধ্যমে ১০ হাজার ৩৩৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ৬,৩৭৫ জন প্রাথমিকভাবে এন্ট্রি লেভেলে এবং বাকি ৩,৯৯১ জন সাব-স্টাফ ও আরডিএস পদে নিযুক্ত হন।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। এরপর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। সাধারণত, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর প্রাপ্তিকেই নিয়োগের জন্য ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই অনিয়মকে বৈধতা দেওয়ার জন্য তৎকালীন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের মানবসম্পদ নীতিমালা সংশোধন করেছিল। সংশোধিত নীতিমালার ৭.০৪ ধারায় উল্লেখ করা হয় যে, ‘জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি ও সিইও) জনবলের প্রয়োজন অনুযায়ী এন্ট্রি লেভেল ও লেটারাল এন্ট্রি গ্রেডে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তার পদমর্যাদার অবিলম্বে নিচের দুই স্তর বাদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উল্লিখিত আনুষ্ঠানিকতা শিথিল করা যাবে’।

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এই বিধানের ৭.০১ ধারা লঙ্ঘনের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ৭.০১ ধারায় বলা হয়েছে যে, সাধারণত বিভিন্ন গ্রেডে নিয়োগের জন্য কমপক্ষে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার জন্য অন্তত ১৫ দিন সময় দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক এই নিয়ম লঙ্ঘনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেছে।