রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দেশের জ্বালানি খাত, বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম লাগাতার বৃদ্ধির ফলে এক লিটার ডিজেল সংগ্রহ করতে সরকারের যেখানে প্রায় ২০৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়, সেখানে এতদিন তা মাত্র ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছিল। এর ফলে প্রতি লিটারে সরকারকে দীর্ঘ সময় ধরে প্রায় ৯০ টাকা করে বিশাল লোকসান গুণতে হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে তেলের দাম কিছুমাত্রায় সমন্বয় করা হলেও সেই লোকসান পুরোপুরি কাটেনি, যার ফলে বর্তমান বাজারমূল্যেও প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রিতে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান রয়ে গেছে।
বিশ্ববাজারের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মূল্যের তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী জানান যে, প্রতিবেশী দেশ নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকারও বেশি। অন্যান্য দেশের এই উচ্চমূল্যের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ডিজেলের দাম অত্যন্ত সীমিত ও সহনশীল পর্যায়ে রাখা হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, বৈশ্বিক এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বাধ্য হয়েই সরকারকে এই দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন যে, রাজধানী ঢাকার মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকার বিভিন্ন স্থানে বাসে ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং হাইকোর্ট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক যোগসূত্র রয়েছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান যে দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত হিসেবেই এই পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি বিশেষ গোষ্ঠীর ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লং মার্চ কর্মসূচি পালন করছেন, তাদের উচিত এই পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নাশকতার বিরুদ্ধেও জোরালো প্রতিবাদ কর্মসূচি দেওয়া। রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সাম্প্রতিক ভাঙচুরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লংমার্চ করছেন তারা কেন এই ঘৃণ্য নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভাও করছেন না। এদেশের জনস্বার্থের যেকোনো মৌলিক ও জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অতীতে এই মহলটি সবসময় বিরোধিতা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইসলামের নীতি-নৈতিকতার দোহাই দিয়ে রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ধর্মকে পুঁজি করে যারা জনগণের সঙ্গে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, তারা কখনোই জনগণের প্রকৃত আস্থা অর্জন করতে পারেনি। ইসলামের দৃষ্টিতেও মুনাফেকিকে কাফেরের চাইতেও বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাতসহ বিশিষ্ট নেতৃবৃন্দ।






















