নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন ও ককটেল হামলা কারা চালাচ্ছে, সেই আসল রহস্য খুব সহজেই বেরিয়ে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬) এক বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে বিএনপি সরকারকে একই সঙ্গে ১১ দলীয় জোট এবং আওয়ামী লীগ—এই দুই বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলে দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে, যা বর্তমান সরকারের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।
রাশেদ খাঁন অভিযোগ করেন যে, এই বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাস থেকেই নতুন করে রাজনৈতিক কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনা চলছে, এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ঠিক একই সময়ে দেশে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। দেশকে অস্থিতিশীল ও অশান্ত করে তোলার হীন উদ্দেশ্যে জামায়াত, এনসিপি এবং আওয়ামী লীগ একত্রিত হয়ে বাস ও ট্রেনে আগুন দেওয়া এবং ককটেল বিস্ফোরণের মতো ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নিয়েছে বলেও তিনি তীব্র নিন্দা জানান।
এ প্রসঙ্গে তিনি তথ্য দিয়ে বলেন যে, এনসিপির এক নেতা ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন যে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত মিলে এই আগুন সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে, অন্যদিকে একই দলের অন্য এক নেতা এমন দাবিও করেছেন যে ১১ দলের দাবিগুলো মেনে নিলে নাকি দেশে আর ককটেল ফুটবে না। নির্বাচিত একটি সরকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যর্থ করতে যারা এসব অপতৎপরতা চালাচ্ছে, তারা কি অপরাধ করছে না?—এমন প্রশ্নও রাখেন এই রাজনৈতিক সহকারী। জুলাইয়ের সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি দাবি করেন যে, সেসময় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদেরই সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। অথচ বর্তমানের সাত মাসের সরকারের বিরুদ্ধে লংমার্চের নামে যে কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং পিকনিক স্টাইলে ছবি তুলে ভিডিও করে তা ফেসবুকে পোস্ট করা হচ্ছে মাত্র।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে রাশেদ খাঁন বলেন যে, বর্তমানে গোটা বিশ্বজুড়েই এক তীব্র জ্বালানি সংকট বিরাজ করছে এবং সরকার যথাসম্ভব ভর্তুকি প্রদান করে জনগণের পাশে থাকার আন্তরিক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করেই বাধ্য হয়ে সরকারকে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়াতে হয়েছে। তবে সরকারের নেওয়া সুনির্দিষ্ট এবং বাস্তবমুখী বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়ে যাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আদানি গ্রুপের বিদ্যুৎ সরবরাহ চুক্তির বিষয়ে মন্তব্য করে তিনি জানান যে, চুক্তি বহাল থাকলেও আদানি কখনো নিয়মিত বিদ্যুৎ দিচ্ছে আবার কখনো দিচ্ছে না।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে নানামুখী অপতৎপরতা ও অসৌজন্যমূলক আচরণে মেতে উঠেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। বিদেশের মাটিতে বসে তারা পরিকল্পিতভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার হীন চক্রান্ত চালাচ্ছে বলেও তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অভিযোগ করেন।






















