Dhaka ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর সিদ্ধান্ত, বিল যাচ্ছে সংসদে

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৪ বার দেখা হয়েছে

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও এর পরিধি আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির একটি শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই স্কিমের আইনগত ভিত্তি সুদৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় খসড়া আইন প্রণয়ন করে তা দ্রুত জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং স্থানীয় পরামর্শকদের সহযোগিতায় শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারিগরি কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই স্কিম চালু হলে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে ইচ্ছুক বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন ও সুগম সুযোগ তৈরি হবে।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার গ্রাহকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কোনো পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়িয়ে ৮০ বছর নির্ধারণ করা; যেখানে পূর্বে এই বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। অর্থাৎ এখন থেকে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার জীবনসঙ্গী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কল্যাণমূলক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের প্রাপ্ত মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে উন্নীত করে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নত করতে আরও বেশ কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধার আওতাভুক্ত নন, তাদের ক্রমান্বয়ে ‘প্রগতি’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের দেশত্যাগের আগেই ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং সহজ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন গ্রাহক নিবন্ধনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মাধ্যমগুলোকে আরও বেশি উৎসাহী করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তহবিলের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমেও আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে এবং জমা হওয়া মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর সিদ্ধান্ত, বিল যাচ্ছে সংসদে

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:০৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন ও এর পরিধি আরও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সম্প্রতি সচিবালয়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ বৈঠকে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির একটি শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়েছে। নতুন এই স্কিমের আইনগত ভিত্তি সুদৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় খসড়া আইন প্রণয়ন করে তা দ্রুত জাতীয় সংসদে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং স্থানীয় পরামর্শকদের সহযোগিতায় শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল ব্যবস্থাপনা, মুনাফা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কারিগরি কাঠামো চূড়ান্ত করার কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইনগত ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এই স্কিম চালু হলে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশন সুবিধা নিতে ইচ্ছুক বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর জন্য অংশগ্রহণের নতুন ও সুগম সুযোগ তৈরি হবে।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালুর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার গ্রাহকদের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানোর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো কোনো পেনশনারের মৃত্যুর পর তার স্বামী বা স্ত্রী কিংবা নির্ধারিত সুবিধাভোগীর পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা বাড়িয়ে ৮০ বছর নির্ধারণ করা; যেখানে পূর্বে এই বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। অর্থাৎ এখন থেকে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার জীবনসঙ্গী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই কল্যাণমূলক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সর্বজনীন পেনশন তহবিলের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের প্রাপ্ত মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে উন্নীত করে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতা বৃদ্ধি এবং সেবার মান উন্নত করতে আরও বেশ কিছু যুগোপযোগী পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধার আওতাভুক্ত নন, তাদের ক্রমান্বয়ে ‘প্রগতি’ স্কিমের অন্তর্ভুক্ত করার প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশগামী কর্মীদের দেশত্যাগের আগেই ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে অবহিত করা এবং সহজ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নতুন গ্রাহক নিবন্ধনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও মাধ্যমগুলোকে আরও বেশি উৎসাহী করতে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের প্রণোদনা ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, তহবিলের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি শতভাগ নিশ্চিত করতে প্রচলিত সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্মের মাধ্যমেও আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চারটি স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারে পৌঁছেছে এবং জমা হওয়া মোট তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকায়।