Dhaka ০৪:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্তদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেশি: গবেষণা

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার দেখা হয়েছে

তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণ মানুষের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই মারা যাচ্ছেন। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য বিশ্লেষণ করে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেস সম্প্রতি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব মানুষের অকালমৃত্যুর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

রিথিঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের কম বয়সী এবং গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। শ্বাসযন্ত্রের রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ছয় গুণ, হৃদ্‌রোগে ৩ দশমিক ৮ গুণ এবং ক্যানসারে ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি। একইসঙ্গে, আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে ১৪ দশমিক ৬ গুণ বেশি। সব ধরনের কারণ মিলিয়ে ৭৫ বছরের আগেই মৃত্যুর সম্ভাবনা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ৪ দশমিক ৮ গুণ বেশি।

এখানে ‘তীব্র মানসিক অসুস্থতা’ বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা বিশেষায়িত মাধ্যমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রেফার হয়েছেন।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডে ১৮ থেকে ৭৪ বছর বয়সী গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও লিভারের রোগ। এর মধ্যে ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগ প্রত্যেকটি মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। শ্বাসযন্ত্রের রোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১১ শতাংশ এবং লিভার রোগে ৮ শতাংশ। একই সময়ে আত্মহত্যা এসব অকালমৃত্যুর ৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল।

দাতব্য সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২-২৪ সময়কালে রেকর্ডে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিটি রোগে ২৪ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেসের বিশ্লেষণে এসব অকালমৃত্যুর পেছনে দারিদ্র্য, অনুপযুক্ত আবাসন, ধূমপানের উচ্চ হার, কিছু ওষুধের কারণে ওজন বৃদ্ধি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষভাবে ‘ডায়াগনস্টিক ওভারশ্যাডোয়িং’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণকে ভুলভাবে তার মানসিক অসুস্থতার অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া। এর ফলে শারীরিক রোগ যথাযথভাবে পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্তদের অকালমৃত্যুর ঝুঁকি বহুগুণ বেশি: গবেষণা

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০৬:১৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণ মানুষের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ বছর আগেই মারা যাচ্ছেন। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য বিশ্লেষণ করে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেস সম্প্রতি এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এসব মানুষের অকালমৃত্যুর বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

রিথিঙ্কের হিসাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের কম বয়সী এবং গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। শ্বাসযন্ত্রের রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ছয় গুণ, হৃদ্‌রোগে ৩ দশমিক ৮ গুণ এবং ক্যানসারে ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি। একইসঙ্গে, আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সাধারণের চেয়ে ১৪ দশমিক ৬ গুণ বেশি। সব ধরনের কারণ মিলিয়ে ৭৫ বছরের আগেই মৃত্যুর সম্ভাবনা সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় ৪ দশমিক ৮ গুণ বেশি।

এখানে ‘তীব্র মানসিক অসুস্থতা’ বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা বিশেষায়িত মাধ্যমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রেফার হয়েছেন।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডে ১৮ থেকে ৭৪ বছর বয়সী গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল ক্যানসার, হৃদ্‌রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও লিভারের রোগ। এর মধ্যে ক্যানসার ও হৃদ্‌রোগ প্রত্যেকটি মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল। শ্বাসযন্ত্রের রোগের কারণে মৃত্যু হয়েছে ১১ শতাংশ এবং লিভার রোগে ৮ শতাংশ। একই সময়ে আত্মহত্যা এসব অকালমৃত্যুর ৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল।

দাতব্য সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, কর্মক্ষম বয়সী মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা ২০২২-২৪ সময়কালে রেকর্ডে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতিটি রোগে ২৪ হাজারের বেশি মৃত্যু হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেসের বিশ্লেষণে এসব অকালমৃত্যুর পেছনে দারিদ্র্য, অনুপযুক্ত আবাসন, ধূমপানের উচ্চ হার, কিছু ওষুধের কারণে ওজন বৃদ্ধি, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির মতো বিষয়গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিশেষভাবে ‘ডায়াগনস্টিক ওভারশ্যাডোয়িং’ বলতে বোঝানো হয়েছে, কোনো ব্যক্তির শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণকে ভুলভাবে তার মানসিক অসুস্থতার অংশ হিসেবে ধরে নেওয়া। এর ফলে শারীরিক রোগ যথাযথভাবে পরীক্ষা ও চিকিৎসা না পাওয়ার আশঙ্কা থাকে, যা অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত মানুষের ক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।