ঋণের পাহাড় ও দুই স্ত্রীর লাগাতার মানসিক চাপ থেকে বাঁচতে নিজেকে নিজেই অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা নজরুল ইসলাম। সাদা বস্তায় ঢুকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এই ‘ভিকটিম’ আসলে নিজেরই রচিত চিত্রনাট্যের প্রধান খলনায়ক ছিলেন। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে। অবশেষে চট্টগ্রাম বন্দরের কর্ণফুলী নদীর এক জাহাজ থেকে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টায়। পল্লবীর ‘দ্য স্যালভেশন আর্মি’ যক্ষ্মা ও কুষ্ঠ ক্লিনিকের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখে মাস্ক ও হুডি পরা এক যুবক সাদা বস্তায় ভারি কিছু একটা টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। কিছু দূর যাওয়ার পর বস্তাটি নড়েচড়ে ওঠে এবং তা থেকে বেরিয়ে আসেন এক ব্যক্তি! এরপর দু’জন মিলেই রিকশায় চড়ে চলে যান।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ফেসবুকে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং দাবি করা হয়, মিলিটারি হাসপাতালের প্রজেক্ট ম্যানেজারকে প্রকাশ্য রাস্তায় বস্তাবন্দী করে অপহরণ করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশি তদন্তে জানা যায়, তথাকথিত ‘প্রজেক্ট ম্যানেজার’ আসলে ওই ক্লিনিকেরই নাইট গার্ড বা নিরাপত্তাকর্মী নজরুল ইসলাম ছিলেন। পুরো দৃশ্যটিই ছিল তার নিজের সাজানো এক নিখুঁত নাটক।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ জানান, পুরো সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। মূলত বিপুল পরিমাণ দেনা এবং দুই স্ত্রীর প্রতিদিনের মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই এমন চাঞ্চল্যকর নাটক সাজিয়েছিলেন নজরুল। এমনকি প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে এর আগে তিনি কয়েকবার আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।
অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে নোঙর করা একটি জাহাজ থেকে আত্মগোপনে থাকা নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বস্তা টানা এবং নাটকের মূল সহযোগী রিপনকেও। দুই স্ত্রী ও পাওনাদারদের হাত থেকে বাঁচতে এমন নাটক সাজানো নজরুল এখন পুলিশের রিমান্ড ও আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়েছেন।






















