জ্বালানি তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ২০ টাকা বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। অবিলম্বে এই বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি জ্বালানি খাতে একটি টেকসই ও জনবান্ধব নীতি গ্রহণের দাবি জানিয়েছে দলটি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন মূল্য অনুযায়ী, ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ থেকে বেড়ে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ থেকে বেড়ে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ থেকে বেড়ে ১৬৫ টাকা হয়েছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, এর আগেও কয়েক দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। অথচ এর আগে সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বারবার জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে জ্বালানির দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। এমনকি গত মার্চ মাসেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছিলেন।
এবি পার্টির এই দুই নেতা আরও উল্লেখ করেন, জনগণের আয় ও ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে কোনো সামঞ্জস্য না রেখে এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ওপর নতুন করে মূল্যস্ফীতির বোঝা চাপানো হবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহন ব্যয়, কৃষি উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। শেষ পর্যন্ত এই চাপ জনগণকেই বহন করতে হবে।
তারা মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার পুরো দায় জনগণের ওপর না চাপিয়ে জ্বালানি খাতে বিদ্যমান অপচয়, দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
বিবৃতিতে এবি পার্টির চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর মূল্যবৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব কমাতে সরকারকে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।






















