Dhaka ০৪:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার দেখা হয়েছে

বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সর্বোচ্চ পদ মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে। এর আগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলানো এই জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে এবার এসআরবির প্রধান নেতৃত্বের দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করা হলো।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারীকৃত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের নির্দেশ জারি করা হয়। একই প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে রদবদল ও দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং অপর দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, নবনিযুক্ত ডিজি ফারুক আহমেদ এসআরবির সদ্য সাবেক মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দূরপাল্লার যান চলাচল সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চাঁদাবাজি ও ডাকাতি কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নজিরবিহীন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেন ফারুক আহমেদ। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধের সুযোগ শূন্যে নামিয়ে আনা, দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সকলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশের মূল কার্যক্রম জোরদার করাকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।

বিশেষ করে দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তায় আধুনিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। অপরাধ দমন ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কজুড়ে ব্যাপক সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি চালুর বাস্তব উদ্যোগ নেন তিনি। সেই সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ১৬টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সর্বাধুনিক ক্যামেরা। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা-মাওয়া বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতেও একই ধরনের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এসব সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, মাদক পাচার ও সন্দেহজনক গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

এর বাইরেও মহাসড়কে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন থেকে অনিয়মিত চাঁদা আদায়, সংগঠিত ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে টহল ও পুলিশের সার্বিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানো হয়। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারি, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কড়া জবাবদিহি এবং সড়কে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবহন ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর নেওয়া এসব কঠোর ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি ও সংগঠিত ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের হার অভূতপূর্বভাবে কমে আসে। এমনকি বেশ কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুটে এ ধরনের অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়। প্রযুক্তির সার্বিক ব্যবহার, মাঠপর্যায়ে নিজস্ব শক্ত অবস্থান এবং সড়কে শতভাগ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নেওয়া সুদূরপ্রসারী উদ্যোগগুলোকে হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বে তাঁর অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফারুক আহমেদের জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মজীবন:

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের নিজ গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক (বিএসসি) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে মেধার পরিচয় দিয়ে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের কর্মময় পুলিশ জীবনে তিনি বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে অতীত ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে তাঁকে সেখান থেকে হঠাৎ প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছিল। বগুড়া জেলায় জন্মস্থান হওয়ায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের আমলে কেবল রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শ ও বিবেচনার কারণে তাঁকে দীর্ঘসময় প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়জুড়ে শুরু হওয়া সার্বিক পদোন্নতি ও রদবদলের সুবাদে তিনি এসপি পদ থেকে পদোন্নতি লাভ করে ডিআইজি পদে উন্নীত হন। এর পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তাঁর পেশাগত সততা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও উচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সর্বমহলে সমাদৃত ও প্রশংসিত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এসআরবির নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পেলেন অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৮:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সর্বোচ্চ পদ মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদকে। এর আগে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলানো এই জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে এবার এসআরবির প্রধান নেতৃত্বের দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করা হলো।

গতকাল মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারীকৃত এক বিশেষ প্রজ্ঞাপনে এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের নির্দেশ জারি করা হয়। একই প্রশাসনিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি ও ডিআইজি পদমর্যাদার মোট সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তার বর্তমান কর্মস্থলে রদবদল ও দায়িত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন অতিরিক্ত আইজিপি এবং অপর দুজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, নবনিযুক্ত ডিজি ফারুক আহমেদ এসআরবির সদ্য সাবেক মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে সারা দেশের মহাসড়কগুলোতে সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, দূরপাল্লার যান চলাচল সম্পূর্ণ নির্বিঘ্ন রাখা এবং দীর্ঘদিনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ চাঁদাবাজি ও ডাকাতি কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু নজিরবিহীন প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেন ফারুক আহমেদ। গত জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধের সুযোগ শূন্যে নামিয়ে আনা, দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট সকলের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্বরত পুলিশের মূল কার্যক্রম জোরদার করাকে তিনি প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন।

বিশেষ করে দেশের ব্যস্ততম মহাসড়কগুলোর নিরাপত্তায় আধুনিক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। অপরাধ দমন ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে নতুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কজুড়ে ব্যাপক সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি চালুর বাস্তব উদ্যোগ নেন তিনি। সেই সঙ্গে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ১৬টি পয়েন্টে স্থাপন করা হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সর্বাধুনিক ক্যামেরা। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা-মাওয়া বঙ্গবন্ধু এক্সপ্রেসওয়েতেও একই ধরনের উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। এসব সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, মাদক পাচার ও সন্দেহজনক গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করার সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়।

এর বাইরেও মহাসড়কে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন থেকে অনিয়মিত চাঁদা আদায়, সংগঠিত ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে টহল ও পুলিশের সার্বিক তৎপরতা বহুগুণ বাড়ানো হয়। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সার্বক্ষণিক বিশেষ নজরদারি, পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে কড়া জবাবদিহি এবং সড়কে পুলিশের দৃশ্যমান উপস্থিতি সুনিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

পরিবহন ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট সুনির্দিষ্ট সূত্রের দাবি, তাঁর নেওয়া এসব কঠোর ও যুগোপযোগী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি ও সংগঠিত ডাকাতির মতো গুরুতর অপরাধের হার অভূতপূর্বভাবে কমে আসে। এমনকি বেশ কিছু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ রুটে এ ধরনের অপরাধ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসে বলেও দাবি করা হয়। প্রযুক্তির সার্বিক ব্যবহার, মাঠপর্যায়ে নিজস্ব শক্ত অবস্থান এবং সড়কে শতভাগ শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নেওয়া সুদূরপ্রসারী উদ্যোগগুলোকে হাইওয়ে পুলিশের নেতৃত্বে তাঁর অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফারুক আহমেদের জীবনবৃত্তান্ত ও কর্মজীবন:

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক আহমেদের নিজ গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কৈডালা (রণবাঘা) গ্রামে। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক (বিএসসি) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে মেধার পরিচয় দিয়ে ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যাডার সার্ভিসে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের কর্মময় পুলিশ জীবনে তিনি বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পদে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে অতীত ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ২০০৯ সালে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে মাত্র দায়িত্ব নেওয়ার ১৭ দিনের মাথায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতির বিশেষ আদেশে তাঁকে সেখান থেকে হঠাৎ প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছিল। বগুড়া জেলায় জন্মস্থান হওয়ায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের আমলে কেবল রাজনৈতিক ভিন্ন মতাদর্শ ও বিবেচনার কারণে তাঁকে দীর্ঘসময় প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি।

পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায়জুড়ে শুরু হওয়া সার্বিক পদোন্নতি ও রদবদলের সুবাদে তিনি এসপি পদ থেকে পদোন্নতি লাভ করে ডিআইজি পদে উন্নীত হন। এর পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তাঁর পেশাগত সততা, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও উচ্চ পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে সর্বমহলে সমাদৃত ও প্রশংসিত হন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।