কুমিল্লা জেলায় নিবন্ধিত বিভিন্ন শিল্পকারখানায় পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নেপথ্য উসকানিদাতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক বা অপরাধী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য, কিশোর গ্যাং এবং নানা প্রকার মাদকের ব্যবসার সাথে যুক্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে একযোগে কঠোর ও ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে এই বিশাল ও ব্যাপক অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান। এর আগে গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে গভীর মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এই যৌথ অভিযানে সর্বমোট ৩৮৫ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার ও আটক করা হয়।
জেলা পুলিশ সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় জেলা পুলিশের অধীনস্থ সব প্রশাসনিক ইউনিট, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি পুলিশ) এবং জেলার আওতাধীন ১৮টি থানার পুলিশ সদস্যরা যৌথভাবে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন পোশাককারখানায় শ্রম অসন্তোষ তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেসবুকে নানা উসকানিমূলক বার্তা ছড়ানোর অভিযোগে মূল ইন্ধনদাতা মাসুদ রানাকে (২৬) সফলভাবে গ্রেপ্তার করে ডিবির একটি চৌকস দল। তিনি বেশ কিছুদিন যাবৎ অনলাইনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সাধারণ শ্রমিকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
এর পাশাপাশি কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার অধীন প্রতিটি থানা সীমানার যেসব স্পটে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের আড্ডা বা বিচরণ রয়েছে, সেসব স্থানে পুলিশি তল্লাশি চালানো হয়। এই সময় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবী, পেশাদার ছিনতাইকারী, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, সক্রিয় কিশোর গ্যাং সদস্য এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিসহ মোট ৩৮৫ জনকে আটক করা হয়। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তদারকিতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, উদীয়মান কিশোর-তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সব ধরনের অপরাধের পথ থেকে সরিয়ে আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা এবং একটি শান্ত ও নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। কিশোর অপরাধ নির্মূলে জেলা পুলিশ শতভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।
তবে অভিযান পরিচালনার সময় সাধারণ ও নিরপরাধ কোনো মানুষ যাতে বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশের সর্বোচ্চ নজরদারি রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। জেলায় অপরাধের মূল উপড়ে ফেলতে পুলিশ প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে।

























