Dhaka ০৪:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’-এর দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসন্ন এই আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঋণের ভারী বোঝার পরিবর্তে সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প উন্নত দেশগুলোর কঠোর জবাবদিহি আদায়ের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হবে।

গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এবার একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ফলপ্রসূ সফরে তুরস্কে গমন করবেন এবং তিনি সেখানে সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা ‘কপ৩১’ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক সম্মেলনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরও জানান, এবারের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট ও প্রশংসনীয় অর্জনসমূহ আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত ও ধনী রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব নৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তীব্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্মেলনে পরিষ্কার ভাষায় ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব ক্ষুদ্র বা উন্নয়নশীল দেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায়, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতি মোকাবিলা করতে গিয়ে সেই দেশগুলোর ওপর বাড়তি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উল্লেখ করেন, “কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত বা জাতীয় ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত আমাদের মতো জনবহুল দেশগুলোকেই এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।”

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির রূপরেখার অধীনে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে তাদের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করার বিষয়টিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

পাশাপাশি, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব রোধে গ্রহণ করা বিভিন্ন যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। সরকারের এসব পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক খাল খনন কার্যক্রম, ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের এসব জনমুখী ও দূরদর্শী উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বহুগুণ জোরদার করা, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন বহন করে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রতিকূল জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর নানা বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তা বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট সফরসূচি, সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দেশত্যাগের ঠিক আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত সব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগেই আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সফরের সমস্ত খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন এই কপ৩১ সম্মেলনে প্রধানত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কঠোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন ক্ষমতা শক্তিশালী করা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল ও অর্থায়ন সহজলভ্য করা এবং বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জোরালো প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজলভ্য এবং পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে দেশের টেকসই জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সার্বিক প্রস্তুতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় এই আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে আসছ বাংলাদেশ।

তুরস্কের এই ঐতিহাসিক কপ৩১ সম্মেলন আয়োজন ও এর সভাপতিত্বের মূল দায়িত্ব পালন করবে স্বাগতিক দেশ তুরস্ক। অন্যদিকে, সম্মেলনের বিভিন্ন জটিল কারিগরি আলোচনা ও দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০২:১৮:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আয়োজিত হতে যাওয়া জাতিসংঘের মর্যাদাপূর্ণ জলবায়ু সম্মেলন ‘কপ৩১’-এর দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স সামিট’-এ যোগদানের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আসন্ন এই আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ঋণের ভারী বোঝার পরিবর্তে সম্পূর্ণ অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী শিল্প উন্নত দেশগুলোর কঠোর জবাবদিহি আদায়ের জোরালো দাবি উত্থাপন করা হবে।

গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ আলাপচারিতায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী এবার একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও ফলপ্রসূ সফরে তুরস্কে গমন করবেন এবং তিনি সেখানে সম্মেলনের দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (ইউএনএফসিসিসি) অধীনে ৩১তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ বা ‘কপ৩১’ আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়া এক্সপো সেন্টারে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই বৈশ্বিক সম্মেলনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের ‘ওয়ার্ল্ড লিডার্স ক্লাইমেট অ্যাকশন সামিট’ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ আরও জানান, এবারের এই সম্মেলনে বৈশ্বিক জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অভিযোজনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সুনির্দিষ্ট ও প্রশংসনীয় অর্জনসমূহ আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রতি উন্নত ও ধনী রাষ্ট্রগুলোর নিজস্ব নৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের জন্য তীব্র কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থানের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্মেলনে পরিষ্কার ভাষায় ঋণের পরিবর্তে অনুদানভিত্তিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করবে। কারণ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে যেসব ক্ষুদ্র বা উন্নয়নশীল দেশের ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায়, জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক পরিণতি মোকাবিলা করতে গিয়ে সেই দেশগুলোর ওপর বাড়তি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত বাস্তবসম্মতভাবে উল্লেখ করেন, “কার্বন নির্গমনে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত বা জাতীয় ভূমিকা প্রায় শূন্যের কোঠায় হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শেষ পর্যন্ত আমাদের মতো জনবহুল দেশগুলোকেই এর সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হচ্ছে।”

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক জলবায়ু চুক্তির রূপরেখার অধীনে প্রধান কার্বন নিঃসরণকারী দেশগুলোকে তাদের পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির জন্য জবাবদিহির মুখোমুখি করার বিষয়টিও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে।

পাশাপাশি, গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব রোধে গ্রহণ করা বিভিন্ন যুগান্তকারী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগও সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বনেতাদের সামনে উপস্থাপন করবেন। সরকারের এসব পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মধ্যে প্রধানত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে দেশব্যাপী ঐতিহাসিক খাল খনন কার্যক্রম, ব্যাপকভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার বিশেষ পরিকল্পনা।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকারের এসব জনমুখী ও দূরদর্শী উদ্যোগ জলবায়ু সহনশীলতা বহুগুণ জোরদার করা, দেশের সামগ্রিক পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সরকারের সুদৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন বহন করে।

বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া এবং বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ কীভাবে প্রতিকূল জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং এর নানা বিরূপ প্রভাবের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, তা বিশ্বমঞ্চে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট সফরসূচি, সফরসঙ্গী উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের পূর্ণাঙ্গ তালিকা এবং সম্মেলনে বাংলাদেশের বিস্তারিত আলোচ্য বিষয়সমূহ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক দেশত্যাগের ঠিক আগে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত সব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের আগেই আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সফরের সমস্ত খুঁটিনাটি ও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন এই কপ৩১ সম্মেলনে প্রধানত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির কঠোর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা, জলবায়ু অভিযোজন ক্ষমতা শক্তিশালী করা, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক তহবিল ও অর্থায়ন সহজলভ্য করা এবং বিশ্বজুড়ে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ জ্বালানির দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জোরালো প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরেই আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন প্রক্রিয়া সহজলভ্য এবং পূর্বানুমানযোগ্য করার দাবি জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে দেশের টেকসই জলবায়ু অভিযোজন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার সার্বিক প্রস্তুতি এবং পরিবেশগত ক্ষতি মোকাবিলায় এই আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর সবসময় গুরুত্ব দিয়ে আসছ বাংলাদেশ।

তুরস্কের এই ঐতিহাসিক কপ৩১ সম্মেলন আয়োজন ও এর সভাপতিত্বের মূল দায়িত্ব পালন করবে স্বাগতিক দেশ তুরস্ক। অন্যদিকে, সম্মেলনের বিভিন্ন জটিল কারিগরি আলোচনা ও দরকষাকষির মূল সভাপতিত্বের দায়িত্ব পালন করবে অস্ট্রেলিয়া।