গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের সার্বিক খোঁজখবর নিতে এবং তাঁদের নানা সমস্যা ও সুনির্দিষ্ট দাবি-দাওয়ার কথা সরাসরি শুনতে বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন গাজীপুর-৫ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য এ.কে.এম. ফজলুল হক মিলন।
গতকাল সোমবার (২ নভেম্বর) তিনি ওই অঞ্চলের একাধিক কারখানায় গিয়ে সেখানে কর্মরত সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। এ সময় তিনি শ্রমিকদের বর্তমান কর্মপরিবেশ, বকেয়া ও নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানসহ অন্যান্য বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন এবং তাঁদের তুলে ধরা নানা দাবি শোনেন।
কারখানাগুলো পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্যে করে বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমজীবী মানুষের সব ধরনের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাঁদের জন্য উপযুক্ত ও যথাযথ মজুরি নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে বদ্ধপরিকর। শ্রমিকদের এই ন্যায্য মজুরি সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার ইতোমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। এ ছাড়া শ্রমিকদের সার্বিক স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলেও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
একই সময়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের চরম ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার বিশেষ আহ্বান জানান ফজলুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, স্বার্থান্বেষী কোনো গোষ্ঠীর অপপ্রচার, রাজনৈতিক উসকানি, গুজব কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কোনোভাবেই প্রভাবিত হওয়া যাবে না। দেশের এই শিল্প খাত রক্ষায় সবাইকে অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, শ্রমিকদের যৌক্তিক দাবি ও বিদ্যমান সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এই সংকট নিরসনে পারস্পরিক আলোচনা, আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে বেশি সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মূল মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ বিভিন্ন দাবিতে গাজীপুরসহ দেশের বেশ কয়েকটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক দিন ধরে তীব্র বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকালেও গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সফিপুর, মৌচাক এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার একাধিক কারখানার শ্রমিকেরা একযোগে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এর ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে সাময়িকভাবে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুরো শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তা ছাড়া তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ও নিরাপত্তার স্বার্থে গাজীপুরের বেশ কিছু তৈরি পোশাক কারখানায় ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।






















