রাজধানীর মাতুয়াইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনের ব্যস্ত সড়কে গভীর রাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে সরাসরি অগ্নিসংযোগ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের সশস্ত্র নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশকে নতুন করে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা এবং চলমান তৈরি পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নাশকতার তীব্র অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর রহস্যজনক ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান।
আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিশেষ ও জোরালো পোস্টে তিনি এ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিস্ফোরক মতামত তুলে ধরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই পোস্টে রাশেদ খান গুরুতর অভিযোগ এনে বলেন, মেহনতি শ্রমিকদের আন্দোলনকে পুঁজি করে একের পর এক গণপরিবহনে অগ্নিসংযোগ, শিল্পকারখানায় হামলা ও ধ্বংসাত্মক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে চললেও প্রধান বিরোধী দলগুলো রহস্যজনকভাবে পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করছে। তাঁর সুনির্দিষ্ট মতে, এই চরম স্পর্শকাতর ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বিরোধী দলগুলোর নিশ্চুপ থাকা প্রকারান্তরে দেশে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে তাদের পরোক্ষ বা মৌন সমর্থনের দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত প্রদান করে।
তিনি তাঁর লিখিত বার্তায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্পষ্ট করে লেখেন, “ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার অন্ধ রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষায় বিভোর হয়ে আওয়ামী লীগের এ ধরনের সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বিরোধী দলগুলোকেও এর জন্য চরম খেসারত দিতে হতে পারে।”
রাশেদ খান আরও যোগ করে লেখেন, বিরোধী দলগুলো যদি সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশের বাস্তবিক কল্যাণ ও মঙ্গল চায়, তবে তাদের উচিত অনতিবিলম্বে রাজপথে নেমে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডকে সরাসরি প্রতিহত করা। তিনি বলেন, “তারা রাজপথে নেমে প্রতিরোধ গড়ে তুললেই কেবল সাধারণ মানুষ বুঝবে যে, বিরোধী দল আসলেই অতীতে ঘটা গণহত্যার সুনির্দিষ্ট বিচার এবং প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার চায়।”
এ ছাড়াও নিজের দেওয়া এই ফেসবুক পোস্টে সদ্য পতিত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে জামায়াত এবং এনসিপির (জাতীয় নাগরিক পার্টি) পর্দার আড়ালে কোনো ধরনের গোপনে আপস-মীমাংসা বা রাজনৈতিক সমঝোতা হচ্ছে কি না—তা নিয়েও গভীর সংশয় ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী।






















