দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে রেকর্ড পরিমাণ তারল্য উদ্বৃত্ত থাকা সত্ত্বেও নতুন ঋণের ভালো প্রস্তাব আসছে না। শিল্পখাতে নতুন বিনিয়োগ কিংবা পুরোনো প্রকল্প সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের অনাগ্রহের কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত টাকা অলস বসে থাকায় বাধ্য হয়ে মেয়াদি আমানতের ওপর সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে ব্যাংকগুলো।
জ্বালানি সংকট ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে অনেক উদ্যোক্তা নতুন বিনিয়োগে ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। ফলশ্রুতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সেপ্টেম্বর মাসে এ খাতে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৪.১৭ শতাংশে, যা টানা সাত মাস ধরে ৫ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। বড় অঙ্কের মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খোলার চাহিদাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন ভালো মানের গ্রাহক তৈরি না হওয়ায় ব্যাংকগুলো পুরোনো করপোরেট গ্রাহকদের ওপর নির্ভর করছে। আবার ব্যাংক পর্ষদগুলোও অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনাদায়ী সুদ ও পুরোনো ঋণের সমন্বয় বাদ দিলে প্রকৃত নতুন ঋণের পরিমাণ আরও কম বলে মনে করছেন খাতের বিশেষজ্ঞরা।
স্থবির অর্থনীতিকে গতিশীল করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও সেখান থেকেও ঋণ ছাড়ের গতি বেশ ধীর। নতুন স্কিমগুলোর কার্যকর প্রভাব বাজারে পড়তে আরও কিছু সময় লাগবে বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের নির্বাহীরা। তবে অর্থনৈতিক পরিবেশ ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত না হলে চলতি বছরে ঋণ প্রবৃদ্ধিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা।


























