মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট সংযোজন ও প্রদর্শনের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের নির্দিষ্ট নকশা ও কাঠামো বিবেচনা করে সামনের অংশে ভিন্ন মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের পাশাপাশি এক লাইনে সম্পূর্ণ রেজিস্ট্রেশন নম্বর লেখার আনুষ্ঠানিক অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সড়ক পরিবহন বিধিমালা সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
মূলত মোটরসাইকেলের সামনের অংশে নম্বরপ্লেট স্থাপন এবং রেজিস্ট্রেশন নম্বর দৃশ্যমান করার ক্ষেত্রে এতদিন যে নানাবিধ বিধিগত জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা নিরসনের জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নতুন বিধিমালায় নম্বরপ্লেটের সার্বিক নকশা, সুনির্দিষ্ট আকার, অক্ষরের উচ্চতা এবং নম্বর লেখার বিন্যাসে কাঠামোগত পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে যেকোনো ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সামনের নম্বরপ্লেট সঠিকভাবে লাগানো সহজ হবে।
গত রবিবার প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ১২২ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর ৩৬ নম্বর বিধি সংশোধন করেছে। নতুন এই বিধান অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রচলিত দুই সারির পদ্ধতির পরিবর্তে একটিমাত্র আনুভূমিক রেখায় বা লাইনে প্রদর্শনের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার থাকবে বিআরটিএ-র। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মোটরসাইকেলের ডিজাইন ও কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেটে সামনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের অনুমতিও দিতে পারবে সংস্থাটি।
সংশোধিত বিধিমালা অনুসারে, নম্বরপ্লেটের প্রতিটি অক্ষরের সুনির্দিষ্ট উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশক অক্ষরের মাপ, যানবাহনের শ্রেণি বোঝাতে ব্যবহৃত ইংরেজি বা বাংলা অক্ষরের উচ্চতা এবং প্লেটের বিভিন্ন অংশের ফাঁকা জায়গার সঠিক পরিমাণ নির্ধারণের পূর্ণ দায়িত্ব বিআরটিএকে অর্পণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ন্যূনতম দূরত্ব এবং দ্বিতীয় লাইনে নম্বর লেখার ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলোর মাঝে ব্যবহৃত হাইফেনের সঠিক দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার ক্ষমতাও এই সংস্থার হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। এক লাইনে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশক অক্ষরের পর নির্দিষ্ট মাপের হাইফেন ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে যে, সংশোধিত এই বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর বলে গণ্য হবে। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখা থেকে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেন।






















