জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাজেট হ্রাস, পরিবেশগত সংকট এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা পুনর্বহালের সম্ভাব্য উদ্যোগের প্রতিবাদে জার্মানিতে তরুণদের জেন-জি আন্দোলন সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে আয়োজিত বিক্ষোভ চলাকালীন বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে, অন্যদিকে মুখোশধারী একদল বিক্ষোভকারী বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনে উগ্রপন্থীদের সুকৌশলে অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে জার্মান সরকার।
গত শনিবার ‘জেন জি হ্যাজ গট দিস!’ ব্যানারে জার্মানির বেশ কয়েকটি শহরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় রোধ, শিক্ষায় পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা চালুর পরিকল্পনা বাতিল করা। আন্দোলন সংশ্লিষ্টরা কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ রাখার আহ্বান জানালেও ফ্রাঙ্কফুর্ট ও কোলনসহ কয়েকটি প্রধান শহরে পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে মোড় নেয়। বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে বলপ্রয়োগ করে। এ সময় মুখোশধারী কিছু ব্যক্তিকে দোকানের জানালা ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’-এর কাছে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেন, ‘বামপন্থী সহিংস গোষ্ঠী এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের কিছু বিশৃঙ্খলাকারী চক্র এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে।’ তবে এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকেন। ফ্রাঙ্কফুর্ট যে অঙ্গরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত, সেই হেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিক্ষোভে উগ্রপন্থীদের সক্রিয় উপস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। তার ভাষ্যমতে, ওই শহরে অন্তত ১০০ জন বামপন্থী উগ্রবাদীকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের উসকানিমূলক তৎপরতার কারণে সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি দ্রুত সহিংস হয়ে ওঠে এবং বিভিন্ন স্থানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
হেসের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক ফ্রাঙ্কফুর্টের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতিকে অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছেন। ফ্রান্সের মতো ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি জার্মানিতে কোনোভাবেই সৃষ্টি হতে দেওয়া হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পোজেক বলেন, ‘ফ্রান্সের সেই বিভীষিকাময় দৃশ্যগুলো আমাদের সকলের স্মৃতিতে এখনো স্পষ্ট—লুটপাট, বাসাবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নগ্ন হামলা। কোনো অবস্থাতেই ফ্রান্সের সেই পরিস্থিতিকে অনুসরণযোগ্য আদর্শ হিসেবে দেখা যাবে না।’ ফ্রাঙ্কফুর্ট পুলিশ জানিয়েছে, দর্বৃত্তরা জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্মীদের লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে এবং একটি অস্ত্রের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনার কাচ ভাঙচুর করেছে।























