যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি দুই বছর পরপর অনুষ্ঠিত হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের মধ্য সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ভোটাররা কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নতুন সদস্য নির্বাচন করে থাকেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নরসহ স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরাও নির্বাচিত হন।
মার্কিন আইন প্রণয়ন, সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মনোনয়ন অনুমোদনের ক্ষেত্রে কংগ্রেস অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। এবারের নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে এবং প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটিতেই ভোটাভুটি হচ্ছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদের জন্যও ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে সাধারণ মানুষের কাছে অর্থনীতিই সবচেয়ে বড় ইস্যু হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার উচ্চমূল্যের কারণে সাধারণ মার্কিন নাগরিকেরা বেশ চাপের মুখে রয়েছেন। এর পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির হার এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা ঘটনার প্রভাবও অর্থনীতিতে পড়েছে। অর্থনীতির পাশাপাশি অভিবাসন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলোও ভোটারদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দিনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসে আধিপত্য বিস্তার করবে, তা এই ভোটের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে। কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে পারলে ট্রাম্পের পক্ষে তাঁর রাজনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হবে, আর ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে।























