বাংলাদেশের উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে পরিচিত চামড়া, নন-লেদার, তৈরি পোশাক এবং উন্নত জাহাজ নির্মাণ শিল্পে সরাসরি বিনিয়োগের জন্য তুর্কি শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সার্বিক আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর পাশাপাশি তুরস্কের (তুর্কিয়ে) বিশাল বাজারে বাংলাদেশি নানা বৈচিত্র্যময় পণ্যের রপ্তানি সুবিধা বাড়াতে কাস্টমসসংক্রান্ত চলমান নানামুখী প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা এবং আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি।
গত রোববার (১ নভেম্বর) তুরস্কের বিখ্যাত ইস্তাম্বুল শহরের হিলটন হোটেলে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী ওমর বোলাতের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী সরাসরি এই জরুরি দিকগুলো তুলে ধরেন। অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা এবং বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো সবিস্তারে পর্যালোচনা করা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলাপকালে বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সরকারের নেওয়া বিনিয়োগবান্ধব উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগামী শিল্প খাতগুলোর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে স্থানীয় চামড়া ও অ-চামড়াজাত (নন-লেদার) পণ্য, গুণগত তৈরি পোশাক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাহাজ নির্মাণ শিল্পের মতো বিশাল খাতে বড় আকারের তুর্কি বিনিয়োগ যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।
একই সময়ে তুরস্কের বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজীকরণের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো এবং কাস্টমসসংক্রান্ত নানা জটিলতার কারণে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না। এসব কৃত্রিম বাধা অতি দ্রুত অপসারণ করা এবং বাংলাদেশি পণ্যের ওপর বসানো অতিরিক্ত শুল্ক কমানোর ক্ষেত্রে তুর্কি বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রত্যক্ষ সমর্থন কামনা করেন তিনি।
অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের বহুকালের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় কৌশলগত ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় দেশের মন্ত্রীই বাণিজ্য বাড়াতে বিদ্যমান আইনি ও প্রশাসনিক বাধাগুলো পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্ক সরকারের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন (ওআইসি)-এর স্থায়ী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা সংক্রান্ত কমিটি ‘কমসেক’ (COMCEC)-এর ৪২তম মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং বা মন্ত্রীপর্যায়ের আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বর্তমানে তুরস্ক সফরে রয়েছেন।






















