জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় নিয়ে যদি কোনো মতপার্থক্য থাকে, তবে তা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে, লং মার্চ করে নয়। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় মানতে হবে—এটা বিএনপি কখনও অস্বীকার করেনি, জুলাই সনদ বাস্তবায়নও অস্বীকার করছে না।
গতকাল ১ নভেম্বর ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের সানাউল্লাহ মিয়া হলরুমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী উল্লেখ করেন, জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) রয়েছে, যা শুধু বিএনপির নয়, আরও অনেক দলেরই আছে। গণতান্ত্রিক পরিবেশে এসব সমস্যার সমাধান সংসদে এবং আলোচনার টেবিলে হওয়াই বাঞ্ছনীয়।
অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতি ইঙ্গিত করে রিজভী বলেন, “আপনারা বলছেন, সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে, না হলে এক দফায় ফিরে যাব। কাকে ভয় দেখাচ্ছেন? বিএনপি বিগত ১৭ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম করেছে। কত নিপীড়ন-অত্যাচার সহ্য করেছে, কত নেতাকর্মী হাত-পা হারিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের পুলিশের শটগানের গুলিতে অনেকে অন্ধত্ব বরণ করেছেন। এত ত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি আজ জনগণের আস্থায় রয়েছে। রাজপথ কি আপনাদের মৌরসি পাট্টা করে দেওয়া হয়েছে যে, আন্দোলনের মাঠ আপনাদের দখলে থাকবে আর আমরা ঘরে বসে থাকব?”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমেই গণতন্ত্রায়নের জন্য জুলাই সনদে উল্লেখিত বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তিনি আহ্বান জানান, সব দল একত্র হয়ে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে পারে। রিজভী আরও বলেন, একটি জাতির আত্মজীবনী হলো তার সংবিধান; সময়ের সঙ্গে একটি জাতির বয়স বাড়লে সংবিধানেও সংশোধনী আসে। কিন্তু ‘সংস্কারের’ কথা বলে আসলে কী বোঝাতে চাওয়া হচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।
নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, তিনি একটানা ৩৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন, যার মধ্যে ২২ দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে এবং ১৩ দিন মোহাম্মদপুর থানায় কাটাতে হয়েছে। সে সময়ের স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, সেই দুঃসময়ে আইনজীবীরা আদালতে রিমান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেন। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে কারাবন্দিরা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।


























