যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে তরুণ সমাজ যদি নিজেদের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক উদ্যোগ সফলভাবে পরিচালনা করতে সক্ষম হয়, তবে তাদের সুবিধাজনক উপায়ে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করার জোরালো আশ্বাস ব্যক্ত করেছেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় ‘জাতীয় যুব দিবস-২০২৬’ উদ্যাপন উপলক্ষে চাঁদপুর যুব ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান অতিথির গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদানকালে সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন মহান নেতা ও রাষ্ট্রময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের যুবসমাজের কল্যাণে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেছিলেন। যার মূল ও অন্তিম উদ্দেশ্য ছিল দেশ থেকে বেকারত্বের অভিশাপ চিরতরে দূর করা এবং সম্ভাবনাময় যুবসমাজকে পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্ত করে আত্মনির্ভরশীল নাগরিকে রূপান্তর করা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নানামুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ নিপুণভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের বেকার তরুণদের নিজেদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিজেদেরই সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষ করে আধুনিক মৎস্য চাষ ও লাভজনক গবাদিপশু পালনের মতো বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঠিক ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ গ্রহণ করে সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্পূর্ণ সম্ভবপর।
নিজের দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এমপি মানিক বলেন, তিনি নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি, তবুও মৎস্য চাষ ও খামার ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে এই প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা নিয়মিত নিয়ে থাকেন। যাঁরা যথাযথ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বাস্তব ক্ষেত্রে নিজেদের ব্যবসা সফলভাবে পরিচালনা করতে পারবেন, তাঁদের জন্য আর্থিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ঋণের বন্দোবস্ত করে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
তরুণ প্রজন্মকে প্রচলিত ধারার বাইরে নতুন ও আধুনিক সম্ভাবনাময় খাতে নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যতের পৃথিবীতে সৌরবিদ্যুৎ একটি অন্যতম লাভজনক ও সম্ভাবনাময় খাত। এ ছাড়াও বর্তমান বিশ্বে উৎপাদিত মৎস্য খাতে বাংলাদেশ গৌরবের সাথে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। তাই প্রচলিত ধ্যান-ধারণা পরিহার করে উদ্ভাবনী ও আধুনিক বাণিজ্যিক কার্যক্রমে তরুণদের নিজেদের সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সাথে পরিবেশবান্ধব উপায়ে গরুর বর্জ্য ব্যবহার করে আধুনিক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মতো সৃজনশীল ও লাভজনক উদ্যোগগুলোও বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।






















