Dhaka ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সমন্বিত করতে ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গঠন

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২৬ বার দেখা হয়েছে

দেশের সার্বিক কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ছয় দশমিক আট শতাংশ থেকে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই যুগান্তকারী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে করের পরিধি বিস্তৃত করা, কর পরিপালন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে জোরদার করা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করা এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার জন্য ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে অত্যন্ত সমন্বিত উপায়ে করদাতা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যার ফলে করদাতার তথ্যভান্ডার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব পরিশোধ এবং বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়াগুলো আরও বেশি গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে।

গত মাসে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে এই রূপরেখা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিস্তারিত পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। উক্ত বৈঠকে মূলত ক্রমবর্ধমান সরকারি ব্যয়ের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এনবিআরের তথ্য ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, গত ২৫ বছরের দীর্ঘ সময়ে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত সাধারণত সাত থেকে আট শতাংশের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে এই অনুপাত প্রায় দশ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা আবার নিম্নমুখী হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত কমে ছয় দশমিক সাত শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয় দশমিক আট শতাংশে এসে দাঁড়ায়, যা দক্ষিণ এশিয়া তথা সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সর্বনিম্ন বলে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রস্তুতকৃত রূপরেখা অনুযায়ী, এনবিআর এই অনুপাত স্বল্পমেয়াদে বাড়িয়ে আট দশমিক আট শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে দশ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা ক্রমান্বয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ১৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আলোচিত সময়ে সরকারের সামগ্রিক ব্যয় চার দশমিক ৪৭ গুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বেড়েছে তিন দশমিক ৪০ গুণ। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এমতাবস্থায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করতে হলে কেবল করের হার বাড়ানোর গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে প্রযুক্তি, উপাত্ত এবং করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনকে অধিকতর যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে করদাতা সেবা উন্নত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, নীতি প্রণয়নের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার প্রথম তিন বছরের মধ্যে একটি সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করা, মামলা ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার প্রদান করা তথ্যের ক্রস-চেক বা মেলবন্ধন ঘটানো এবং অভিন্ন ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর রূপরেখা রয়েছে। পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে রিয়েল-টাইম পরিপালন বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় উপায়ে কর ফেরত প্রদান এবং অত্যাধুনিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শুল্ক ও কাস্টমস খাতের আধুনিকায়নে আমদানি-রপ্তানিকারকদের তথ্যের সঙ্গে মূল্যায়ন এবং ভ্যাট-আয়করের ঝুঁকির তথ্য সমন্বয়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ধারাকে আরও বেগবান করতে রাজস্ব নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার প্রস্তাব করেছে এনবিআর। এর অংশ হিসেবে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর আমদানি শুল্ক হ্রাস করা, কৃষি খাত, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা, এবং বিভিন্ন উদীয়মান খাতে করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার পরিধিভুক্ত প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স ও রেফ্রিজারেটর, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, মোবাইল ফোন উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাত, পুঁজিবাজার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা, ওষুধ শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। সামগ্রিক এই বহুমুখী সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অক্ষুণ্ন রেখে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার প্রত্যাশা করছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস সমন্বিত করতে ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গঠন

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সার্বিক কর-জিডিপি অনুপাত বর্তমানের ছয় দশমিক আট শতাংশ থেকে আগামী ২০৩৫ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাপকভিত্তিক সংস্কার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই যুগান্তকারী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে করের পরিধি বিস্তৃত করা, কর পরিপালন প্রক্রিয়া কঠোরভাবে জোরদার করা, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ত্বরান্বিত করা এবং আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনকে একটি অভিন্ন কাঠামোর অধীনে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করার জন্য ‘ওয়ান এনবিআর’ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর পরিবর্তে অত্যন্ত সমন্বিত উপায়ে করদাতা ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করবে, যার ফলে করদাতার তথ্যভান্ডার, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব পরিশোধ এবং বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়াগুলো আরও বেশি গতিশীল ও স্বচ্ছ হবে।

গত মাসে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের পক্ষ থেকে এই রূপরেখা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিস্তারিত পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হয়। উক্ত বৈঠকে মূলত ক্রমবর্ধমান সরকারি ব্যয়ের চাহিদার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্য রেখে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের সক্ষমতা বাড়ানোর অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এনবিআরের তথ্য ও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, গত ২৫ বছরের দীর্ঘ সময়ে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত সাধারণত সাত থেকে আট শতাংশের সীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যদিও ২০১১-১২ থেকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরের মধ্যবর্তী সময়ে এই অনুপাত প্রায় দশ শতাংশে উন্নীত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে তা আবার নিম্নমুখী হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই অনুপাত কমে ছয় দশমিক সাত শতাংশ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছয় দশমিক আট শতাংশে এসে দাঁড়ায়, যা দক্ষিণ এশিয়া তথা সামগ্রিক আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে সর্বনিম্ন বলে চিহ্নিত হয়েছে।

প্রস্তুতকৃত রূপরেখা অনুযায়ী, এনবিআর এই অনুপাত স্বল্পমেয়াদে বাড়িয়ে আট দশমিক আট শতাংশ এবং মধ্যমেয়াদে দশ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা ক্রমান্বয়ে ২০৩৫ সালের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ১৫ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। ঐতিহাসিক তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, আলোচিত সময়ে সরকারের সামগ্রিক ব্যয় চার দশমিক ৪৭ গুণ বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় এনবিআরের রাজস্ব আহরণের পরিমাণ বেড়েছে তিন দশমিক ৪০ গুণ। ২০০১-০২ অর্থবছর থেকে শুরু করে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত জাতীয় রাজস্ব প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এমতাবস্থায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে অর্জন করতে হলে কেবল করের হার বাড়ানোর গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে প্রযুক্তি, উপাত্ত এবং করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

রাজস্ব প্রশাসনকে অধিকতর যুগোপযোগী ও শক্তিশালী করতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে করদাতা সেবা উন্নত করা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, নীতি প্রণয়নের সক্ষমতা বাড়ানো এবং তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত কর্মপরিকল্পনার প্রথম তিন বছরের মধ্যে একটি সমন্বিত করদাতা অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করা, মামলা ও গ্রাহক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন করা, তৃতীয় পক্ষের তথ্যের সঙ্গে করদাতার প্রদান করা তথ্যের ক্রস-চেক বা মেলবন্ধন ঘটানো এবং অভিন্ন ঝুঁকি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালুর রূপরেখা রয়েছে। পরবর্তী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে রিয়েল-টাইম পরিপালন বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় উপায়ে কর ফেরত প্রদান এবং অত্যাধুনিক জালিয়াতি শনাক্তকরণ ব্যবস্থা চালু করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, শুল্ক ও কাস্টমস খাতের আধুনিকায়নে আমদানি-রপ্তানিকারকদের তথ্যের সঙ্গে মূল্যায়ন এবং ভ্যাট-আয়করের ঝুঁকির তথ্য সমন্বয়ের ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় অর্থনীতিতে শিল্পায়ন এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের ধারাকে আরও বেগবান করতে রাজস্ব নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাতের জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার প্রস্তাব করেছে এনবিআর। এর অংশ হিসেবে কাঁচামাল ও মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর আমদানি শুল্ক হ্রাস করা, কৃষি খাত, নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ভ্যাট অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা, এবং বিভিন্ন উদীয়মান খাতে করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সহায়তার পরিধিভুক্ত প্রধান খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি, তৈরি পোশাক শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্স ও রেফ্রিজারেটর, অটোমোবাইল ও বৈদ্যুতিক যানবাহন, মোবাইল ফোন উৎপাদন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এসএমই খাত, পুঁজিবাজার, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবা, ওষুধ শিল্প এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাত। সামগ্রিক এই বহুমুখী সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অক্ষুণ্ন রেখে অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার প্রত্যাশা করছে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ।