চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪১ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই বিপুল ঘাটতি মোকাবিলা, করজাল সম্প্রসারণ এবং আয়কর রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করতে সংস্থাটি খেলাপী করদাতাদের বাড়িতে বাড়িতে চিঠি পাঠানোসহ মৃত ও নিষ্ক্রিয় টিআইএনধারীদের শনাক্ত করার এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি টিআইএনধারী থাকলেও গত অর্থবছরে মাত্র ৫০ লাখের মতো করদাতা রিটার্ন জমা দিয়েছেন। ফলে বাকী প্রায় ৮০ লাখ টিআইএনধারীর প্রকৃত করযোগ্য আয় আছে কি না অথবা তাঁদের মধ্যে কতজন মারা গেছেন কিংবা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতেই এই পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
এনবিআরের মাঠপর্যায়ের কর অঞ্চলগুলো থেকে ইতোমধ্যে নোটিশ ও চিঠি পাঠানো শুরু হলেও করদাতাদের সঠিক ঠিকানা হালনাগাদ না থাকায় পাঠানো চিঠির প্রায় ৪০ শতাংশ ফেরত আসছে এবং বিপরীতে মাত্র ১০ শতাংশ করদাতা সাড়া দিচ্ছেন। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে রিটার্ন না দেওয়া টিআইএনধারীদের মধ্যে মৃত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ভোটার তালিকা এবং জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন কর্তৃপক্ষের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে এনবিআর। বর্তমানে মৃত ব্যক্তির টিআইএন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিলের অনলাইন ব্যবস্থা না থাকায় উত্তরাধিকারীদের আবেদন করতে হয়, যার ফলে প্রকৃত ডেটাবেজ হালনাগাদে নানা আইনি জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ এনবিআরের ডেটাবেজ দ্রুত হালনাগাদ ও আধুনিকীকরণের ওপর জোর দিয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৯৬ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আয়কর ও শুল্ক বাবদ এনবিআর আদায় করতে পেরেছে ৯২ হাজার ৫১৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ১.৮৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে এনবিআরের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা রয়েছে।


























