পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করার জন্য কর আইনজীবীসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে রাষ্ট্রপতি এই আহ্বান জানান।
নৈতিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রতিরোধ: সাক্ষাৎকালে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ ও নৈতিক অবনতির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধগুলো ক্রমান্বয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার ফলে গোটা একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে সমাজের প্রতিটি মানুষকে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এবং নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় সোচ্চার ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
গণতন্ত্র রক্ষা ও সুশাসন প্রসঙ্গে: দীর্ঘ লড়াইয়ের পর দেশ পুনরায় গণতন্ত্রের ধারায় ফিরে এসেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাটাকে যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা এবং আমরা যেন পুনরায় স্বৈরাচারী বা অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে না যাই, সেদিকে সতর্ক থাকা। ব্যক্তিনির্ভর শাসন কাঠামোর সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে এসে একটি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নির্বাচিত সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় ও সহযোগিতা দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রতিনিধিদলের দাবি ও প্রস্তাবনা: সাক্ষাৎকালে ঢাকা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন খান বারের নিজস্ব স্থায়ী ভবন নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে জমি বরাদ্দের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল মতিন দেশের হাজার হাজার কর আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে একটি স্বতন্ত্র ‘ট্যাক্সেস বার কাউন্সিল’ প্রতিষ্ঠার জোরালো দাবি জানিয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর আগে বাংলাদেশ ট্যাক্স ল’ইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমিজউদ্দিন আহমেদ দেশের ৪২ হাজার কর আইনজীবীর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের এই পেশাগত ফোরামকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা চান।
রাজস্ব আহরণ ও সহযোগিতার আশ্বাস: জাতীয় অর্থনীতি ও রাজস্ব আহরণে কর আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের রাজস্ব বৃদ্ধিতে কর আইনজীবীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় যারা প্রকৃতপক্ষেই আয়কর দেওয়ার যোগ্য ও সক্ষম, তারা যেন সঠিকভাবে আয়কর প্রদান করেন তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। পরিশেষে, কর আইনজীবীদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিগুলো সমাধানে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন রাষ্ট্রপতি।






















