নতুন প্রবর্তিত জাতীয় বেতন স্কেল বা নবম পে-স্কেলের বিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন দপ্তরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে সরকার। এ ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জন্য আলাদা ও স্পষ্ট বিধান রাখা হয়েছে।
অর্থ বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই নতুন আর্থিক বিধিমালা ও নিয়মাবলী চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। গতকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়।
সরকার এবং বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ প্রজাতন্ত্রের বিভিন্ন অসামরিক পদে জনস্বার্থের খাতিরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্ত এই প্রজ্ঞাপনে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পূর্বে তৎকালীন জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর আওতায় বিভিন্ন নির্ধারিত গ্রেডে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যে সমস্ত কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ উক্ত তারিখের পরও বহাল রয়েছে, তাঁদের চুক্তিপত্র যথাযথভাবে সংশোধন সাপেক্ষে নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের আলোকে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
এই নিয়মের আওতায় ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট গ্রেড ও নির্দিষ্ট ধাপ অনুযায়ী তাঁদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হবে। এছাড়া ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এ বর্ণিত নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে তাঁরা বর্ধিত হারে বেতন সুবিধা লাভ করবেন। তবে এই প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্টের সুবিধাটি প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি চুক্তিপত্রের শর্ত অনুযায়ী অন্যান্য প্রচলিত ভাতাদিও তাঁদের প্রদান করা হবে।
অবসরের আগের গ্রেড ও ধাপ বিবেচনায় বেতন নির্ধারণ: যে সকল ব্যক্তি গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখের পরে নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন কিংবা আগামীতেও পাবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার অব্যবহিত পূর্বে জাতীয় বেতন স্কেলের যে গ্রেড ও ধাপে মূল বেতন নির্ধারিত ছিল, নতুন বেতন স্কেলে সেই একই গ্রেড ও ধাপের মূল বেতন বিবেচনা করেই চুক্তিভিত্তিক পদের বেতন নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে কোনো বিদ্যমান চুক্তি বলবৎ থাকলে তা সংশোধন করে নিতে হবে।
নতুন নিয়মে চুক্তিপত্র অনুযায়ী চাকরিতে যোগদানের নির্ধারিত তারিখ থেকে বিধান মোতাবেক বর্ধিত হার অনুযায়ী মূল বেতন এবং অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতাদি প্রদান করা হবে। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক পূর্বে নির্ধারিত বেতন কিংবা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে চুক্তিপত্রে নির্ধারিত বেতনই চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বেতন থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মোট প্রাপ্য পেনশন (কম্যুটেশন বা সমর্পণের পূর্বের মোট অঙ্ক) এবং কোনো বিশেষ অতিরিক্ত পেনশন থাকলে তা কোনোভাবেই কর্তন বা বাদ দেওয়া হবে না।
ইনক্রিমেন্ট ও আনুতোষিক সুবিধা থাকছে না: চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকালীন কার্যকর চাকরির মেয়াদের জন্য কোনো ধরনের ইনক্রিমেন্ট বা বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, কোনো প্রকার আনুতোষিক (গ্র্যাচুইটি) কিংবা বর্ধিত পেনশন প্রদান করা হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে।
যে সমস্ত ব্যক্তি মূলত কোনো অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী নন, তাঁদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য শর্তাবলি প্রতিটি নির্দিষ্ট নিয়োগের যোগ্যতা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনা করে নির্ধারণ করা হবে। এই বিশেষ ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে বলা হয়েছে, এর সাথে সাংঘর্ষিক ও বিরোধপূর্ণ পূর্বের সকল আদেশ, স্মারক ও নির্দেশনার সংশ্লিষ্ট অংশ বাতিল বলে গণ্য হবে। তবে নতুন এই প্রজ্ঞাপনের সাথে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ পূর্ববর্তী নির্দেশনাগুলো বহাল থাকবে। ভবিষ্যতে বেতন-ভাতা সংক্রান্ত বিষয়ে সরকার নতুন কোনো আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করলে, সেগুলোও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
উল্লেখ্য, এর মাধ্যমে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি জারি করা এ-সংক্রান্ত আগের পুরোনো প্রজ্ঞাপনটি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করে এই নতুন ও যুগোপযোগী প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।






















