গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐতিহাসিক জাপান সফরে অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা কৌশলসহ নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এই বৃহৎ সহযোগিতা প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশে একটি সর্বাধুনিক সমুদ্রবন্দর এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি নতুন টার্মিনাল সরাসরি নির্মাণ করবে জাপান।
গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উষ্ণ ও আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। টানা ২৫ মিনিটের দীর্ঘ বৈঠকের সমাপ্তিতে প্রকাশিত এক যৌথ প্রাতিষ্ঠানিক বিবৃতিতে উভয় দেশ অর্থনৈতিক ও উন্নয়নমূলক নানাবিধ বিষয়ে একযোগে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। যৌথ সেই রূপরেখার অধীনে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা অবকাঠামো প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়নে জাপান প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখবে। এসব মেগা উন্নয়নমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সমুদ্রবন্দর স্থাপন এবং রাজধানী ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যৌথ আলোচনায় অবকাঠামো ছাড়াও বাংলাদেশে নতুন জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কৌশলগত ‘বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয়’ (বিগ-বি), মুক্ত ও অবাধ ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল (ইন্দো-প্যাসিফিক) বজায় রাখা এবং উত্তর কোরিয়া ও মিয়ানমারের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে।
এর পাশাপাশি ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় ‘অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি’ (ইপিএ) দ্রুততম সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে একযোগে কাজ করতে পুরোপুরি ঐকমত্যে পৌঁছেছেন উভয় দেশের সরকারপ্রধান।
টোকিওতে আয়োজিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেন যে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে ভৌগোলিক বিচারে বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জাপানের নিজস্ব অর্থনীতির প্রসার ও কৌশলের জন্যও বাংলাদেশকে পাশে পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাপানি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের যৌথ লক্ষ্য অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্ট—দুই দেশের বহু বছরের বিশ্বস্ত বন্ধুত্বকে দ্বিপক্ষীয় অর্থনীতি, নতুন বাণিজ্যিক সুযোগ সৃষ্টি এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির এক শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করা।”
এ ছাড়া জাপানের বিশেষ ‘সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা’ (ওএসএ) কর্মসূচির আওতায় সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন নতুন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দুই দেশের শীর্ষ নেতা একমত হয়েছেন। উল্লেখ্য, এই সুনির্দিষ্ট ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে জাপান তার আন্তর্জাতিক মিত্র ও সমমনা বিভিন্ন দেশকে সর্বাধুনিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জামসহ নানাবিধ নিরাপত্তা সহযোগিতা প্রদান করে থাকে।






















