Dhaka ০৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

‘না বুঝে ভুল করেছি’, ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে তালাকের ঘোষণা মাসুদের

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ বার দেখা হয়েছে

নিজের বিবাহিত প্রথম স্ত্রীকে ঘরে বহাল রেখেই তাঁর আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করে সারা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেওয়া আলোচিত টিকটকার ও আইনজীবী সহকারী মো. মাসুদ রানা অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে তিনি নিজের মারাত্মক ভুল স্বীকার করেন এবং হাত জোড় করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ রানা জানান, তাঁর জীবনে করা সবচেয়ে বড় ভুলটি ছিল প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই আপন শ্যালিকাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলা। প্রথম স্ত্রীকে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক দেওয়ার পর শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়তো এই বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হতো না, যা তাঁর মোটেও জানা ছিল না।

নিজের চরম ধর্মীয় ও সামাজিক অজ্ঞতার কারণেই এমন অমার্জনীয় ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আগে থেকে এটি বুঝতে পারতাম যে এমন সম্পর্ক সমাজের চোখে গুরুতর অপরাধ এবং পবিত্র ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম, তবে আমরা কখনোই এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করতাম না। কারণ জেনে-বুঝে কেউ কখনো আগুনে হাত দেয় না।’

তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সমাজ, আইন ও পরিবেশ পরিস্থিতি যেভাবে চাইবে, তিনি এখন থেকে ঠিক সেভাবেই নিজের জীবন পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি ও ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে যাকে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, সেই আপন শ্যালিকাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি তালাক প্রদান করবেন বলেও স্পষ্ট জানান।

ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার বদলগাছী সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত বৈরাগীপাড়া এলাকায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন অভিযুক্ত মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেই ভাড়া বাসায় তাঁদের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয় এবং এর পরদিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও তাঁর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন তিনি।

বিয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে চরম অদ্ভুত ও বিতর্কিত এ ঘটনার পক্ষে সাফাই গেয়ে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর শতভাগ সম্মতি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতাতেই তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। তাঁর দেওয়া বিতর্কিত ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্যত্র অন্য কোথাও বিয়ে সম্পাদিত হলে তাঁদের পূর্বে যৌথভাবে ধারণ করা কিছু ঘরোয়া টিকটক ভিডিওর কারণে ভবিষ্যতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো, মূলত এমন মারাত্মক আশঙ্কায় তিনি এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে সেই বিয়ের পরপরই দুই স্ত্রীকে একসাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রচার করা শুরু করলে তা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্কিত ঘটনার জের ধরে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাঁর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করার প্রতিবাদে এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা ওই টিকটকার ও আইনজীবী সহকারীকে মুখভর্তি চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে অপমানজনকভাবে বের করে দেয়।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

‘না বুঝে ভুল করেছি’, ফেসবুক লাইভে ক্ষমা চেয়ে শ্যালিকাকে তালাকের ঘোষণা মাসুদের

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩১:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

নিজের বিবাহিত প্রথম স্ত্রীকে ঘরে বহাল রেখেই তাঁর আপন ছোট বোনকে (শ্যালিকা) বিয়ে করে সারা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও সামাজিক বিতর্কের জন্ম দেওয়া আলোচিত টিকটকার ও আইনজীবী সহকারী মো. মাসুদ রানা অবশেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে জাতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি লাইভে এসে তিনি নিজের মারাত্মক ভুল স্বীকার করেন এবং হাত জোড় করে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদ রানা জানান, তাঁর জীবনে করা সবচেয়ে বড় ভুলটি ছিল প্রথম স্ত্রীকে বহাল রেখেই আপন শ্যালিকাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তোলা। প্রথম স্ত্রীকে আইনি প্রক্রিয়ায় তালাক দেওয়ার পর শ্যালিকাকে বিয়ে করলে হয়তো এই বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হতো না, যা তাঁর মোটেও জানা ছিল না।

নিজের চরম ধর্মীয় ও সামাজিক অজ্ঞতার কারণেই এমন অমার্জনীয় ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আগে থেকে এটি বুঝতে পারতাম যে এমন সম্পর্ক সমাজের চোখে গুরুতর অপরাধ এবং পবিত্র ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম, তবে আমরা কখনোই এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করতাম না। কারণ জেনে-বুঝে কেউ কখনো আগুনে হাত দেয় না।’

তিনি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, সমাজ, আইন ও পরিবেশ পরিস্থিতি যেভাবে চাইবে, তিনি এখন থেকে ঠিক সেভাবেই নিজের জীবন পরিচালনা করবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের ছবি ও ভিডিওর অপ্রয়োজনীয় প্রচার অবিলম্বে বন্ধ করার বিনীত অনুরোধ জানান তিনি। একই সাথে যাকে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন, সেই আপন শ্যালিকাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনি তালাক প্রদান করবেন বলেও স্পষ্ট জানান।

ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ জেলার বদলগাছী সদর ইউনিয়নের অন্তর্গত বৈরাগীপাড়া এলাকায় প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন অভিযুক্ত মাসুদ রানা। গত ২৪ অক্টোবর সেই ভাড়া বাসায় তাঁদের গায়েহলুদ সম্পন্ন হয় এবং এর পরদিন অর্থাৎ ২৫ অক্টোবর প্রথম স্ত্রীর প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও তাঁর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন তিনি।

বিয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে চরম অদ্ভুত ও বিতর্কিত এ ঘটনার পক্ষে সাফাই গেয়ে মাসুদ রানা দাবি করেছিলেন, তাঁর প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর শতভাগ সম্মতি ও প্রত্যক্ষ সহযোগিতাতেই তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। তাঁর দেওয়া বিতর্কিত ভাষ্য অনুযায়ী, শ্যালিকা পূর্ণিমার অন্যত্র অন্য কোথাও বিয়ে সম্পাদিত হলে তাঁদের পূর্বে যৌথভাবে ধারণ করা কিছু ঘরোয়া টিকটক ভিডিওর কারণে ভবিষ্যতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হতো, মূলত এমন মারাত্মক আশঙ্কায় তিনি এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে সেই বিয়ের পরপরই দুই স্ত্রীকে একসাথে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রচার করা শুরু করলে তা মুহূর্তেই ইন্টারনেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এই বিতর্কিত ঘটনার জের ধরে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকায় চরম উত্তেজনা ও তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তাঁর আপন ছোট বোনকে বিয়ে করার প্রতিবাদে এবং সামাজিক অনাচারের বিরুদ্ধে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে স্থানীয় জনতা ওই টিকটকার ও আইনজীবী সহকারীকে মুখভর্তি চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে অপমানজনকভাবে বের করে দেয়।