Dhaka ০২:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাঘায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চুরি-ভাঙচুর

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৭ বার দেখা হয়েছে

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সরকারি মনিগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতপরিচয় চোরের দল কেন্দ্রের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান এবং মূল্যবান সরকারি স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা একাধিক দাপ্তরিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত শনিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে মনিগ্রাম বাজার সংলগ্ন উক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে এ অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে যথাসময়ে কার্যালয়ে পৌঁছে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোসা. সুমি আক্তার মূল অফিসের প্রবেশদ্বারের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরের কক্ষে প্রবেশ করলে দাপ্তরিক মালামাল চুরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তছনছ ও ভাঙচুরের বিষয়টি স্পষ্ট দেখতে পান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুমি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নৈশপ্রহরী বা নিবন্ধিত নিরাপত্তাকর্মী পদায়ন করা হয়নি। নৈশ নিরাপত্তার চরম অনুপস্থিতি ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত কেন্দ্র প্রাঙ্গণে স্থানীয় মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনা দেখতে পাওয়া যায়। কোনো প্রকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবসময় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশী সবনম জানান, মনিগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ভবনটির ভৌত অবকাঠামো বেহাল ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বেশ কিছুদিন ধরে কার্যক্রম পাশের আবাসিক কোয়ার্টারে স্থানান্তরের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল। নৈশকালীন চুরির ঘটনায় কক্ষ থেকে একটি সিলিং ফ্যান এবং একটি সরকারি স্টিলের আলমারি খোয়া গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সরকারি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক মালামাল আগেই সুরক্ষিতভাবে কোয়ার্টারে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। চুরির ঘটনার বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে প্রশাসনিকভাবে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানে নিয়োজিত অন্যতম প্রধান এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকবাসী ও কেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা অতি দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থায়ী নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুরির বিষয়ে লিখিত ডায়েরি ও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত চক্রটিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে দুই বাড়িতে অভিযান, ১৯৪ বস্তা সার জব্দ

বাঘায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে চুরি-ভাঙচুর

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১২:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় সরকারি মনিগ্রাম ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে গভীর রাতে এক দুঃসাহসিক চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতপরিচয় চোরের দল কেন্দ্রের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে একটি বৈদ্যুতিক ফ্যান এবং মূল্যবান সরকারি স্টিলের আলমারিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের ভেতরে থাকা একাধিক দাপ্তরিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত শনিবার (১১ অক্টোবর ২০২৬) দিবাগত রাতে মনিগ্রাম বাজার সংলগ্ন উক্ত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে এ অনাকাঙ্ক্ষিত চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) সকালে যথাসময়ে কার্যালয়ে পৌঁছে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মোসা. সুমি আক্তার মূল অফিসের প্রবেশদ্বারের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। পরে আশপাশের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে ভেতরের কক্ষে প্রবেশ করলে দাপ্তরিক মালামাল চুরি ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তছনছ ও ভাঙচুরের বিষয়টি স্পষ্ট দেখতে পান।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুমি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দীর্ঘদিন ধরে কোনো নৈশপ্রহরী বা নিবন্ধিত নিরাপত্তাকর্মী পদায়ন করা হয়নি। নৈশ নিরাপত্তার চরম অনুপস্থিতি ও দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিনিয়ত কেন্দ্র প্রাঙ্গণে স্থানীয় মাদকসেবী ও বখাটেদের আনাগোনা দেখতে পাওয়া যায়। কোনো প্রকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবসময় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শশী সবনম জানান, মনিগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির মূল ভবনটির ভৌত অবকাঠামো বেহাল ও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বেশ কিছুদিন ধরে কার্যক্রম পাশের আবাসিক কোয়ার্টারে স্থানান্তরের দাপ্তরিক প্রক্রিয়া চলমান ছিল। নৈশকালীন চুরির ঘটনায় কক্ষ থেকে একটি সিলিং ফ্যান এবং একটি সরকারি স্টিলের আলমারি খোয়া গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, সরকারি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবান ওষুধপত্র ও অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক মালামাল আগেই সুরক্ষিতভাবে কোয়ার্টারে সরিয়ে রাখা হয়েছিল। চুরির ঘটনার বিষয়ে গত ১২ অক্টোবর সোমবার বিকেলে প্রশাসনিকভাবে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানে নিয়োজিত অন্যতম প্রধান এই সরকারি প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটে যাওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকবাসী ও কেন্দ্রে কর্মরত স্বাস্থ্যকর্মীরা অতি দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির স্থায়ী নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

বাঘা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেরাজুল হক চুরির লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চুরির বিষয়ে লিখিত ডায়েরি ও অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করছে এবং অপরাধের সাথে জড়িত চক্রটিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।