Dhaka ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

৬৮৫ টাকায় ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, যুক্ত হলো ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

মাত্র ৬৮৫ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়ায় এখন রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি রেলযোগে সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার সাধারণ ও পর্যটক যাত্রীদের বিপুল চাহিদার কথা গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে সম্পূর্ণ নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই ট্রেন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জনপ্রিয় ও লাভজনক এই রুটে নিয়মিত ট্রেনের সংখ্যা মোট দুই জোড়া থেকে বৃদ্ধি পেয়ে তিন জোড়ায় উন্নীত হলো।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারগামী এই নতুন ট্রেনের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

নতুন ট্রেনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বয়ং উপস্থিত থেকে যাত্রীদের সুবিধার জন্য ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেন রেলপথমন্ত্রী। তিনি জানান, সাশ্রয়ী ও কম খরচে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেনের শোভন চেয়ারের আসন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৬৮৫ টাকা।

অন্যদিকে, যেসব যাত্রী তুলনামূলক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবেশে ট্রেন ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের জন্য এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) আসনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩১১ টাকা। সম্পূর্ণ নতুন এই ট্রেনটিতে সর্বমোট আনুমানিক ৭০৬টি আসন রয়েছে। ফলে যাত্রীরা তাঁদের সাধ্য, সামর্থ্য ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট আসন নির্বাচন করে নিরাপদে ভ্রমণ করার সুবিধা পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের টিকিটের চরম ও সীমাহীন চাহিদার কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং যাত্রীবাহী কোচের চরম স্বল্পতার কারণে এতদিন পর্যন্ত এই কাঙ্ক্ষিত রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। মূলত হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং চাপ কমাতে নতুন মহানগর প্রভাতী/এক্সপ্রেস চালু করা হলো।’

তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে সমুদ্র উপকূলে যাওয়া-আসার এই কৌশলগত রুটে নিয়মিত তিন জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বাড়িয়ে মোট সাত জোড়া পর্যন্ত উন্নীত করার এক দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবে রূপদান করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন ভ্রমণপিপাসু ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের বিকল্প সুযোগ বহুগুণ বাড়বে, ঠিক তেমনই বাংলাদেশ রেলেওয়েতে যাতায়াত প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি আধুনিক ও সাবলীল হয়ে উঠবে।’

দেশজুড়ে রেল খাতের টেকসই ও সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সমগ্র দেশে এক মানসম্মত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থা রূপদান করতে বর্তমান সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। সুনির্দিষ্ট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে নতুন শক্তিশালী লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী আধুনিক কোচ ক্রয়ের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক রেল যোগাযোগকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব রূপ দিতে ঢাকা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন (ইলেকট্রিক ট্রেন) চালুর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী এই বিশেষ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেছে।’

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

৬৮৫ টাকায় ট্রেনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার, যুক্ত হলো ‘মহানগর এক্সপ্রেস’

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মাত্র ৬৮৫ টাকা সর্বনিম্ন ভাড়ায় এখন রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি রেলযোগে সমুদ্রসৈকতের শহর কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। দূরপাল্লার সাধারণ ও পর্যটক যাত্রীদের বিপুল চাহিদার কথা গভীরভাবে বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ নামে সম্পূর্ণ নতুন এক জোড়া ট্রেন চালু করেছে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। নতুন এই ট্রেন যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে জনপ্রিয় ও লাভজনক এই রুটে নিয়মিত ট্রেনের সংখ্যা মোট দুই জোড়া থেকে বৃদ্ধি পেয়ে তিন জোড়ায় উন্নীত হলো।

গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে রাজধানীর ঐতিহাসিক কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারগামী এই নতুন ট্রেনের আনুষ্ঠানিক ফলক উন্মোচন ও শুভ উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

নতুন ট্রেনের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বয়ং উপস্থিত থেকে যাত্রীদের সুবিধার জন্য ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ তুলে ধরেন রেলপথমন্ত্রী। তিনি জানান, সাশ্রয়ী ও কম খরচে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করতে ইচ্ছুক সাধারণ যাত্রীদের জন্য ট্রেনের শোভন চেয়ারের আসন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ৬৮৫ টাকা।

অন্যদিকে, যেসব যাত্রী তুলনামূলক শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আধুনিক ও আরামদায়ক পরিবেশে ট্রেন ভ্রমণ করতে চান, তাঁদের জন্য এসি চেয়ার (স্নিগ্ধা) আসনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৩১১ টাকা। সম্পূর্ণ নতুন এই ট্রেনটিতে সর্বমোট আনুমানিক ৭০৬টি আসন রয়েছে। ফলে যাত্রীরা তাঁদের সাধ্য, সামর্থ্য ও ব্যক্তিমালিকানাধীন পছন্দ অনুযায়ী নির্দিষ্ট আসন নির্বাচন করে নিরাপদে ভ্রমণ করার সুবিধা পাবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেনের টিকিটের চরম ও সীমাহীন চাহিদার কথা উল্লেখ করে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) এবং যাত্রীবাহী কোচের চরম স্বল্পতার কারণে এতদিন পর্যন্ত এই কাঙ্ক্ষিত রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। মূলত হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং চাপ কমাতে নতুন মহানগর প্রভাতী/এক্সপ্রেস চালু করা হলো।’

তিনি আরও যোগ করে বলেন, ‘বর্তমানে সমুদ্র উপকূলে যাওয়া-আসার এই কৌশলগত রুটে নিয়মিত তিন জোড়া ট্রেন চলাচল করলেও পর্যায়ক্রমে এই সংখ্যা বাড়িয়ে মোট সাত জোড়া পর্যন্ত উন্নীত করার এক দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। এই পরিকল্পনাটি দ্রুত বাস্তবে রূপদান করা সম্ভব হলে একদিকে যেমন ভ্রমণপিপাসু ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াতের বিকল্প সুযোগ বহুগুণ বাড়বে, ঠিক তেমনই বাংলাদেশ রেলেওয়েতে যাতায়াত প্রক্রিয়া আরও অনেক বেশি আধুনিক ও সাবলীল হয়ে উঠবে।’

দেশজুড়ে রেল খাতের টেকসই ও সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত প্রাতিষ্ঠানিক নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সমগ্র দেশে এক মানসম্মত, নিরাপদ ও বিশ্বমানের আধুনিক রেল যোগাযোগব্যবস্থা রূপদান করতে বর্তমান সরকার শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ। সুনির্দিষ্ট সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে নতুন শক্তিশালী লোকোমোটিভ ও যাত্রীবাহী আধুনিক কোচ ক্রয়ের কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। এ ছাড়া সার্বিক রেল যোগাযোগকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীবান্ধব রূপ দিতে ঢাকা সংলগ্ন নারায়ণগঞ্জ থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত আধুনিক বৈদ্যুতিক ট্রেন (ইলেকট্রিক ট্রেন) চালুর বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী এই বিশেষ প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন লাভ করেছে।’