বিশ্ববাজারে পোশাক উৎপাদনের মানদণ্ড ও প্রত্যাশায় দ্রুত পরিবর্তন আসছে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিককল্যাণ, স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার এখন বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি তুলে ধরতে ‘বাটেক্সপো ২০২৬’-এ বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে থাকছে ‘ইমপ্যাক্ট জোন’। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, পিডিএসের পৃষ্ঠপোষকতা ও বিজিএমইএর ব্যবস্থাপনায় আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণ অনুষ্ঠিত হবে।
এসংক্রান্ত বিজিএমইএর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই জোনে পোশাকশিল্পের পরিবেশগত টেকসই উদ্যোগ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরা হবে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার, পুনর্ব্যবহার, চক্রাকার অর্থনীতি (সার্কুলার ইকোনমি) ও সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি লিঙ্গসমতা, শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি, শিশুযত্ন এবং মাতৃসেবাসংক্রান্ত উদ্যোগও প্রদর্শন করা হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিবর্তনশীল নীতিমালা ও বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার নতুন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারও তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল পণ্য পরিচিতিপত্র এবং পণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ অনুসরণের প্রযুক্তি (ট্রেসেবিলিটি)। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে পোশাক উৎপাদনে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন শর্ত পূরণের প্রস্তুতি তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের মতে, প্রচলিত নিয়মনীতি মেনে চলার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প কতটা ভবিষ্যৎমুখী প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা ফুটিয়ে তুলবে ‘ইমপ্যাক্ট জোন’। টেকসই উৎপাদন, স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পাবে।
এ বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, জলবায়ু রক্ষা, সম্পদ দক্ষতা এবং সার্কুলার ইকোনমির যুগে আমাদের শিল্প যে সামগ্রিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা এই ‘ইমপ্যাক্ট জোন’ স্পষ্ট করে তুলবে।


























