Dhaka ০৫:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি: লাশের ওপর নৃত্যকারী ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের বাপ্পাদিত্য বসু, জামায়াত আমিরের দাবি

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নারকীয় তাণ্ডব কেবল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগের একক কর্মকাণ্ড ছিল না; বরং জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে সে হামলায় তাদের দোসর বামপন্থিরাও সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেদিন নিরীহ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যার পর লাশের ওপর উঠে যে ছেলেটি অসভ্যের মতো নৃত্য করেছিল, সে ছিল তাদেরই দোসর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা বাপ্পাদিত্য বসু।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি মূলত ফ্যাসিস্টদের একটি ক্লাব। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিজেদের গদি চিরস্থায়ী করতে চেয়েছে। ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে চারটি বাদে সব সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে গিয়ে উসকানি দিয়ে বলেছিলেন—আমার দলের একজনকে খুন করা হলে তার বিনিময়ে দশটা লাশ ফেলতে হবে।’

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লগি-বৈঠার তাণ্ডবের এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশজুড়ে কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় হাজির হতে। রাজধানীর পিচঢালা পাকা রাস্তায় নৌকা চালানোর জন্য লগি-বৈঠা লাগে না; সেই লগি-বৈঠা আনা হয়েছিল প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। এখানে বলা হয়ে থাকে আওয়ামী লীগের লোকেরাই শুধু এ কাজ করেছে। কিন্তু না, তাদের সাথে তাদের দোসর বামপন্থীরাও সেদিন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ শক্তিতে শরিক হয়েছিল।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যা করার পর তাদের লাশগুলো পর্যন্ত চুরি করে গায়েব করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু উপস্থিত নেতাকর্মীদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা ব্যর্থ হয়। এমনকি চারদলীয় জোট সরকারে থাকা সত্ত্বেও সেদিন পল্টনে সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত পুলিশের সামনে কীভবে এমন ঘটনা ঘটলো, তা বিস্ময়কর।’

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডি: লাশের ওপর নৃত্যকারী ছিলেন ছাত্র ইউনিয়নের বাপ্পাদিত্য বসু, জামায়াত আমিরের দাবি

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১০:২৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে লগি-বৈঠার নারকীয় তাণ্ডব কেবল বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগের একক কর্মকাণ্ড ছিল না; বরং জামায়াত নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে সে হামলায় তাদের দোসর বামপন্থিরাও সরাসরি অংশ নিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সেদিন নিরীহ নেতাকর্মীদের পিটিয়ে হত্যার পর লাশের ওপর উঠে যে ছেলেটি অসভ্যের মতো নৃত্য করেছিল, সে ছিল তাদেরই দোসর ছাত্র ইউনিয়নের নেতা বাপ্পাদিত্য বসু।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি মূলত ফ্যাসিস্টদের একটি ক্লাব। তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, হত্যা ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিজেদের গদি চিরস্থায়ী করতে চেয়েছে। ১৯৭২ থেকে ’৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করে চারটি বাদে সব সংবাদপত্র বন্ধ করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে গিয়ে উসকানি দিয়ে বলেছিলেন—আমার দলের একজনকে খুন করা হলে তার বিনিময়ে দশটা লাশ ফেলতে হবে।’

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পটভূমি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লগি-বৈঠার তাণ্ডবের এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল ঘোষণা দিয়েছিলেন দেশজুড়ে কর্মীদের লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় হাজির হতে। রাজধানীর পিচঢালা পাকা রাস্তায় নৌকা চালানোর জন্য লগি-বৈঠা লাগে না; সেই লগি-বৈঠা আনা হয়েছিল প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য। এখানে বলা হয়ে থাকে আওয়ামী লীগের লোকেরাই শুধু এ কাজ করেছে। কিন্তু না, তাদের সাথে তাদের দোসর বামপন্থীরাও সেদিন এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ শক্তিতে শরিক হয়েছিল।’

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যা করার পর তাদের লাশগুলো পর্যন্ত চুরি করে গায়েব করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু উপস্থিত নেতাকর্মীদের সাহসী প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা ব্যর্থ হয়। এমনকি চারদলীয় জোট সরকারে থাকা সত্ত্বেও সেদিন পল্টনে সকাল থেকে মাগরিব পর্যন্ত পুলিশের সামনে কীভবে এমন ঘটনা ঘটলো, তা বিস্ময়কর।’