স্পেনের বিশাল আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বহুলাংশে বাড়াতে এবং দেশে বেশি করে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্দেশ্যে দেশটির শীর্ষ উদ্যোক্তাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্পেনের ঐতিহাসিক সেভিল শহরে আয়োজিত ‘তৃতীয় বাংলাদেশ-স্পেন এক্সপো ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিষয়ে বিশদে কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় ওষুধ শিল্প (ফার্মাসিউটিক্যালস), ঐতিহ্যবাহী চামড়া ও জুতা শিল্প, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি), নবায়নযোগ্য শক্তি ও জ্বালানি এবং আধুনিক উচ্চমানের উৎপাদনশিল্প খাতগুলোতে বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও বিশাল বিনিয়োগের অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি হয়ে রয়েছে।
স্পেনের সেভিলে আয়োজিত এই আড়ম্বরপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রদূত, স্পেনের আন্দালুসিয়া রাজ্য সরকারের সম্মানিত আঞ্চলিক মন্ত্রী, সিনেটর, স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি এবং দুই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। আন্তর্জাতিক এই মেলা ও এক্সপোতে বিশ্বমানের তৈরি পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্য, পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্য, বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদি ও আধুনিক গৃহস্থালির সামগ্রীসহ বিভিন্ন খাতের প্রায় ৪০টি বাংলাদেশি ও স্প্যানিশ স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান নিজেদের তৈরি পণ্যসামগ্রী দর্শনার্থীদের সামনে সফলভাবে প্রদর্শন করে।
বক্তব্যদানকালে শামা ওবায়েদ ইসলাম দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ স্থাপন, পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময় ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার ক্ষেত্রে ‘স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’-র ভূমিকা ও অনন্য উদ্যোগের চরম ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত তৈরি পোশাক খাতের প্রাথমিক বিকাশ ও অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে দেশের মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও প্রখ্যাত রাষ্ট্রনায়ক প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ও অবিস্মরণীয় অবদানের কথা গভীরভাবে স্মরণ করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ, বিপুল পরিমাণ বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ব্যবসাবান্ধব টেকসই পরিবেশ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে খ্যাত পাটের বহুমুখী ও নতুন বৈশ্বিক সম্ভাবনার কথা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন তিনি।
তাঁর সুচিন্তিত মতানুযায়ী, আন্তর্জাতিক আধুনিক ফ্যাশন, শৈল্পিক নকশা ও টেকসই পরিবেশবান্ধব পণ্য সামগ্রী তৈরিতে পাটের নানা উদ্ভাবনী ও বৈচিত্র্যময় ব্যবহার দিন দিন বহুগুণ বাড়ানোর বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্নত নকশা, বিশ্বমানের ফ্যাশন ও সাংস্কৃতিক শিল্পসহ সামগ্রিক সৃজনশীল অর্থনীতির ব্যাপক বিকাশ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিপুল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
দিনব্যাপী আয়োজিত এই বিশেষ এক্সপোর মূল প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য হলো—বাংলাদেশ ও স্পেনের মূলধারার ব্যবসায়ীদের মধ্যে সুদৃঢ় বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরি করা, স্পেনের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের সার্বিক রপ্তানি সম্প্রসারণ ঘটানো এবং দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বৈশ্বিক বিনিয়োগ, আধুনিক উদ্ভাবন ও টেকসই পণ্য উৎপাদনে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্পূর্ণ নতুন পথ উন্মোচন করা। সুসংগঠিত এই মেলার আয়োজকদের দৃঢ় প্রত্যাশা, নতুন এই যৌথ উদ্যোগটি আগামী দিনে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও বহুদূর সামনের দিকে এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।






















