Dhaka ০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ বার দেখা হয়েছে

দুই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বহুমুখী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বহুলাংশে জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সময়োপযোগী, আধুনিক, পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত এফটিএ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাক্ষর করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে উভয় দেশ।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সভাকক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

আড়ম্বরপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের পক্ষে চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দফার আলোচনার সূচনালগ্নে মূল আলোচনার রূপরেখা ও সার্বিক কার্যপরিধি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে উভয় দেশের পক্ষ থেকে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক নিবিড় বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক ধর্মীয় মূল্যবোধের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিশাল অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বিশদে জানান, গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ২০২৭ সালের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ প্রথম দফার এই আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে দুই শীর্ষ নেতার সেই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাজ শুরু হলো।

বাণিজ্য সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণজনিত নানা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা শক্তভাবে ধরে রাখতে এই এফটিএ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ভৌগোলিক দিক থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেলবন্ধনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক হালাল শিল্প, দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর খাতে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস খাত এবং দেশের বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ ভারী বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। বক্তব্যকালে আঞ্চলিক বৃহৎ অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহ ও পদক্ষেপে মালয়েশিয়ার সার্বিক ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি দেশটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

প্রতিনিধিদলের প্রধান ও মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই এফটিএ কেবল দ্বিপক্ষীয় শুল্ক হ্রাসের সাধারণ চুক্তি নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার একটি যুগান্তকারী কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর তুলে ধরা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তি কার্যকর হলে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যাপক শিল্পায়ন ও নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগের এক নতুন স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত হবে।

তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রাতিষ্ঠানিক নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এই দ্বিপক্ষীয় এফটিএ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত ও গতিশীল করবে বলে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন নিজের বক্তব্যে বলেন, উক্ত এফটিএ শেষ পর্যন্ত কার্যকর রূপ পেলে দুই দেশের বাজারেই প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সহজতর হবে, বিদ্যমান অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য বাধাগুলো বহুলাংশে কমে আসবে এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়ে উঠবে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, চলমান আলোচনায় মূলত বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের মূল উৎপত্তিবিধি নির্ণয়) এবং প্রাসঙ্গিক শুল্ক প্রক্রিয়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে উভয় দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী সেশনের শেষান্তে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও কৌশলগত নমনীয়তার নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, অত্যন্ত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সুফলদায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শুরু হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার এই নিবিড় প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয়

মোংলা বন্দরে দুটি আধুনিক কন্টেইনার জেটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া এফটিএ চুক্তির প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু

সর্বশেষ হালনাগাদ : ০১:১২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

দুই বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও বহুমুখী বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বহুলাংশে জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে বহুপ্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সুনির্দিষ্ট ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে একটি সময়োপযোগী, আধুনিক, পুরোপুরি ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত এফটিএ চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে স্বাক্ষর করার জোরালো প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে উভয় দেশ।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সভাকক্ষে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার ঐতিহাসিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

আড়ম্বরপূর্ণ এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের পক্ষে চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের একাধিক ঊর্ধ্বতন প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকর্তা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। প্রথম দফার আলোচনার সূচনালগ্নে মূল আলোচনার রূপরেখা ও সার্বিক কার্যপরিধি সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করতে উভয় দেশের পক্ষ থেকে ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ (টিওআর) চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক নিবিড় বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পারস্পরিক ধর্মীয় মূল্যবোধের সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক হলেও সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিশাল অনাবিষ্কৃত সম্ভাবনাকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

তিনি বিশদে জানান, গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ২০২৭ সালের সুনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। আজ প্রথম দফার এই আনুষ্ঠানিক প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে দুই শীর্ষ নেতার সেই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানের আনুষ্ঠানিক প্রশাসনিক কাজ শুরু হলো।

বাণিজ্য সচিব আরও জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণজনিত নানা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাংলাদেশের নিজস্ব সক্ষমতা শক্তভাবে ধরে রাখতে এই এফটিএ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ভৌগোলিক দিক থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মেলবন্ধনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় বাজারে পরিণত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক হালাল শিল্প, দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর খাতে কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস খাত এবং দেশের বিভিন্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ ভারী বিনিয়োগের বিপুল সম্ভাবনা উন্মুক্ত রয়েছে। বক্তব্যকালে আঞ্চলিক বৃহৎ অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহ ও পদক্ষেপে মালয়েশিয়ার সার্বিক ও অব্যাহত সমর্থনের জন্য তিনি দেশটির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

প্রতিনিধিদলের প্রধান ও মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই এফটিএ কেবল দ্বিপক্ষীয় শুল্ক হ্রাসের সাধারণ চুক্তি নয়; বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করার একটি যুগান্তকারী কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর তুলে ধরা প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৫ সালে দুই বন্ধুপ্রতীম দেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের মোট পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বহুল প্রতীক্ষিত এই চুক্তি কার্যকর হলে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ব্যাপক শিল্পায়ন ও নতুন বৈদেশিক বিনিয়োগের এক নতুন স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত হবে।

তিনি গভীর আশা প্রকাশ করেন যে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, প্রাতিষ্ঠানিক নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে আগামী ২০২৭ সালের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই সমস্ত আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এই দ্বিপক্ষীয় এফটিএ প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত ও গতিশীল করবে বলে তিনি জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অপরদিকে বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন নিজের বক্তব্যে বলেন, উক্ত এফটিএ শেষ পর্যন্ত কার্যকর রূপ পেলে দুই দেশের বাজারেই প্রবেশাধিকার অত্যন্ত সহজতর হবে, বিদ্যমান অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য বাধাগুলো বহুলাংশে কমে আসবে এবং নতুন শিল্প বিনিয়োগ ও বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও পূর্বানুমানযোগ্য হয়ে উঠবে।

তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, চলমান আলোচনায় মূলত বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের মূল উৎপত্তিবিধি নির্ণয়) এবং প্রাসঙ্গিক শুল্ক প্রক্রিয়াসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলীতে উভয় দেশের পারস্পরিক বাণিজ্যিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে চূড়ান্ত ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী সেশনের শেষান্তে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক প্রাতিষ্ঠানিক শ্রদ্ধা ও কৌশলগত নমনীয়তার নীতি অনুসরণ করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, অত্যন্ত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সুফলদায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে শুরু হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) প্রথম দফার এই নিবিড় প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহত থাকবে।