জর্ডানের একটি ঐতিহাসিক গির্জায় সশস্ত্র বন্দুকধারীদের চালানো সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার বদলা নিতে প্রতিবেশী সিরিয়ার ভূখণ্ডে এক ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে জর্ডানের সশস্ত্র সামরিক বাহিনী। গতকাল সোমবার (২৬ অক্টোবর) চালানো এই বিমান হামলায় নারী ও কতিপয় শিশুসহ অন্তত সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত সপ্তাহে দেশটির কৌশলগত কারাক গভর্নরেটে অবস্থিত একটি গির্জায় কতিপয় সশস্ত্র বন্দুকধারীর হামলায় নয়জন নাগরিক প্রাণ হারান এবং বেশ কিছু লোক মারাত্মকভাবে আহত হন। মূলত সেই সন্ত্রাসী হামলার প্রত্যক্ষ জবাবেই গতকাল সোমবার সিরিয়ার অভ্যন্তরে এই বিমান হামলা চালায় জর্ডান বাহিনী। জর্ডান সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, এই বিমান হামলার মূল সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল সিরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিদ্রোহী ও জঙ্গি গোষ্ঠীর আস্তানাগুলো, যাদের সাথে জর্ডানের গির্জায় সন্ত্রাসী হামলা চালানো ব্যক্তিদের সরাসরি যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রাতিষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সোমবারের এই বিধ্বংসী বিমান হামলায় উল্লিখিত সশস্ত্র দলগুলোর বেশ কয়েকজন সক্রিয় সদস্য নিহত ও আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি তাদের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি সামরিক যানবাহন ও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। জর্ডান সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, প্রতিবেশী সিরিয়া সরকারের সাথে অগ্রিম পূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয় রক্ষা করেই এই বিশেষ সীমানা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যদিও জর্ডানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই সমন্বয়ের দাবি তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে সিরিয়া কর্তৃপক্ষ। তবে এই সামরিক অভিযানে সুনির্দিষ্ট কোন কোন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছে কিংবা আক্রমণের আসল স্থান ঠিক কোথায় ছিল, সে বিষয়ে জর্ডান সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, জর্ডানের বিমান বাহিনীর চালানো একটি বিশেষ হামলায় একই সাধারণ পরিবারের তিনটি শিশু, এক নারী ও এক পুরুষ সদস্য ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া অন্যান্য পৃথক দুটি হামলায় যথাক্রমে ৬০ ও ৮০ বছর বয়সী আরও দুজন বয়স্ক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সিরিয়ার দক্ষিণ সীমান্তসংলগ্ন কৌশলগত দারা ও সুয়াইদা প্রদেশের অভ্যন্তরীণ একাধিক স্থানে জর্ডানের যুদ্ধবিমান থেকে এই হামলাগুলো পরিচালনা করা হয়। হঠাৎ এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার সার্বিক ঘটনায় আনুষ্ঠানিক তদন্ত কাজ ইতিমধ্যে শুরু করেছে সিরিয়ার সরকার। এক বিবৃতিতে দেশটির পক্ষ থেকে সীমান্তবর্তী স্পর্শকাতর অঞ্চলগুলোতে ‘যৌথভাবে সরাসরি মাঠপর্যায়ে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে নিবিড় সমন্বয়ের’ অসামান্য গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই রক্তক্ষয়ী সামরিক বিমান হামলার ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যকার প্রধান যোগাযোগের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ ‘নাসিব সীমান্ত ক্রসিং’ অনির্দিষ্টকালের জন্য পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে সিরিয়া সরকার।























