মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে কোনো ধরনের নতুন সামরিক হামলা চালানোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আপাতত নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে একই দিনে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও, পরবর্তীতে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে আপাতত এই মুহূর্তে কোনো হামলা চালানো হচ্ছে না।
গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) মিশিগানে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে হোয়াইট হাউস ত্যাগ করার সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ইরানে তাৎক্ষণিক হামলা চালানো হবে কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, ইরানে এই মুহূর্তে হামলা চালানো হবে কি না—এমন প্রশ্নে তাঁর পরিষ্কার উত্তর হলো ‘না’, অন্তত আজ রোববারের মধ্যে সেখানে কোনো ধরনের সামরিক হামলা হচ্ছে না।
তবে এই বক্তব্যের আগে দিনের প্রথম অংশে ইরানকে কেন্দ্র করে বেশ আক্রমণাত্মক ও কঠোর বক্তব্য তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের সাথে নতুন কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো হবে, নাকি দেশটিকে সামরিকভাবে পুরোপুরি নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন করা হবে—এই বিষয়টিই এখন ওয়াশিংটনের সামনে প্রধান প্রশ্ন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
একই সাথে পারস্য উপসাগর এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ওয়াশিংটনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজ দাবির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখন সম্পূর্ণরূপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ইরান সেখান থেকে কৌশলগত বা অর্থনৈতিক কোনো সুবিধা পাচ্ছে না।
এর আগে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ট্রাম্প একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা যেতে পারে কিংবা তেহরানের সাথে একটি নতুন চুক্তিতে উপনীত হতে পারে ওয়াশিংটন। তবে সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ইরান ভবিষ্যতে কতটুকু মেনে চলবে বা রক্ষা করবে, তা নিয়ে নিজের গভীর সংশয় ও অনাস্থার কথা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সাথে যৌথ সামরিক অংশীদারিত্বে ইরানে অত্যন্ত বড় আকারের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর পর জুন মাসে দুই পক্ষের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও তা স্থায়ী রূপ লাভ করেনি।
এদিকে আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরান কেন্দ্রিক এই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তবে ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা না চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, ভবিষ্যতে যেকোনো সময় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে সম্ভাবনা—তা কিন্তু পুরোপুরি নাকচ হয়ে যায়নি।























