Dhaka ০১:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ :
ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামো চূড়ান্ত, শ্রমিকদের বেতন জানুয়ারি থেকে কার্যকর বড়দিন উদযাপনে খ্রিষ্টান কল্যাণ ট্রাস্টকে ৩ কোটি টাকা অনুদান দিলেন প্রধানমন্ত্রী কারখানা বন্ধের চক্রান্ত ও উসকানিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: সালাহউদ্দিন আহমদ পোশাকশিল্পে টানা অস্থিতিশীলতায় চরম উদ্বিগ্ন উদ্যোক্তারা দেশে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৮৪ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত: বিশ্বব্যাংক ভ্যাটসহ প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়াল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা ডলারের বিনিময় হারে ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকের এমডিদের সতর্ক করলেন গভর্নর উদ্যোক্তাদের অনীহায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৪.১৭ শতাংশে চার মাসে রেমিট্যান্স প্রবাহে ১৪.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন আর শুধু সম্ভাবনা নয়, অনিবার্য বাস্তবতা: প্রধানমন্ত্রী

ভোলায় শতাধিক অনিবন্ধিত কর্মহীন জেলেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান

  • সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ২১ বার দেখা হয়েছে

মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ দিনের কঠোর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ভোলার সরকারিভাবে সুবিধা বঞ্চিত ও অনিবন্ধিত শতাধিক জেলের মাঝে জরুরী ত্রাণ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগী প্রতিটি অসহায় জেলে পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১ কেজি লবণ প্রদান করা হয়।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা জংশন বাজারে অবস্থিত প্রাঙ্গণে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত প্রায় শতাধিক অনিবন্ধিত জেলের হাতে সরাসরি এই খাদ্য সহায়তা তুলে দেয় স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ইলিশা সমাজ কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’।

ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ শেষে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আকুতি ব্যক্ত করে স্থানীয় অভিজ্ঞ জেলে মো. নাছির মাঝি জানান, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার পরিচালনা করছেন। স্ত্রী ও সন্তানসহ তাঁর পরিবারে মোট ৬ জন সদস্য রয়েছে, যাদের শিক্ষা ও খাদ্যের সম্পূর্ণ সংস্থান তাঁর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘ তিন দশক ধরে পেশাগত কাজ করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি খাতায় তাঁর নাম জেলে হিসেবে নিবন্ধিত হয়নি। যার দরুন প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষা কিংবা অন্য যেকোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বা ত্রাণ তিনি পান না।

তিনি আরও আকুতি জানান, চলতি বছরও প্রজনন মৌসুমে নদীতে যেতে না পেরে আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে সরকারি তালিকার বাইরে থাকায় চালও মেলেনি। ফলে ধার-দেনা ও অর্ধাহারে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় স্বেচ্ছাসেবীদের দেয়া এই খাদ্য সহায়তায় তাঁর পরিবার আগামী কিছুদিন পেট ভরে খাওয়ার সংস্থান পেল।

একইভাবে উপকারভোগী নুরজাহান বেগম জানান, তাঁর স্বামী নদীতে মাছ ধরে কোনো প্রকারে দিন গুজরান করতেন। কিন্তু বর্তমান সরকারি অভিযানে উপার্জন বন্ধ থাকায় এবং সরকারি কার্ড না থাকায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। স্বেচ্ছাসেবীদের এই খাদ্যপণ্য পাওয়ায় সংসারের টানাটানির দুশ্চিন্তা খানিকটা লাঘব হয়েছে। অন্য জেলে সফিক মাঝি বলেন, নিবন্ধনের অভাবে হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে সরকারি সহায়তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন, এমতাবস্থায় সামাজিক সংগঠনগুলোর এই মানবিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

উক্ত খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস। ইলিশা সমাজ কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নজরুল ইসলাম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মো. সাইফুল ইসলাম।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নজরুল ইসলাম সুমন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের সংগঠন এলাকাভিত্তিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারিভাবে অনিবন্ধিত থাকায় যেসকল প্রকৃত জেলে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন, তাদের দুর্দশা লাঘবেই এই বিশেষ খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো জেলে পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে না।

জনপ্রিয়

পোশাক খাতের শ্রমিক আন্দোলনে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নাশকতার প্রমাণ মিলল

ভোলায় শতাধিক অনিবন্ধিত কর্মহীন জেলেকে খাদ্য সহায়তা প্রদান

সর্বশেষ হালনাগাদ : ১১:১৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

মা ইলিশ রক্ষায় ২৫ দিনের কঠোর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া ভোলার সরকারিভাবে সুবিধা বঞ্চিত ও অনিবন্ধিত শতাধিক জেলের মাঝে জরুরী ত্রাণ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ ত্রাণ প্যাকেজের আওতায় সুবিধাভোগী প্রতিটি অসহায় জেলে পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ৫ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল এবং ১ কেজি লবণ প্রদান করা হয়।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা জংশন বাজারে অবস্থিত প্রাঙ্গণে পূর্ব ইলিশা ইউনিয়নের সুবিধা বঞ্চিত প্রায় শতাধিক অনিবন্ধিত জেলের হাতে সরাসরি এই খাদ্য সহায়তা তুলে দেয় স্থানীয় সামাজিক প্রতিষ্ঠান ‘ইলিশা সমাজ কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’।

ত্রাণ সহায়তা গ্রহণ শেষে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আকুতি ব্যক্ত করে স্থানীয় অভিজ্ঞ জেলে মো. নাছির মাঝি জানান, তিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে পরিবার পরিচালনা করছেন। স্ত্রী ও সন্তানসহ তাঁর পরিবারে মোট ৬ জন সদস্য রয়েছে, যাদের শিক্ষা ও খাদ্যের সম্পূর্ণ সংস্থান তাঁর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘ তিন দশক ধরে পেশাগত কাজ করলেও আজ পর্যন্ত সরকারি খাতায় তাঁর নাম জেলে হিসেবে নিবন্ধিত হয়নি। যার দরুন প্রতি বছর মা ইলিশ রক্ষা কিংবা অন্য যেকোনো সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকার থেকে বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বা ত্রাণ তিনি পান না।

তিনি আরও আকুতি জানান, চলতি বছরও প্রজনন মৌসুমে নদীতে যেতে না পেরে আয়-রোজগার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সাথে সরকারি তালিকার বাইরে থাকায় চালও মেলেনি। ফলে ধার-দেনা ও অর্ধাহারে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল। এমতাবস্থায় স্বেচ্ছাসেবীদের দেয়া এই খাদ্য সহায়তায় তাঁর পরিবার আগামী কিছুদিন পেট ভরে খাওয়ার সংস্থান পেল।

একইভাবে উপকারভোগী নুরজাহান বেগম জানান, তাঁর স্বামী নদীতে মাছ ধরে কোনো প্রকারে দিন গুজরান করতেন। কিন্তু বর্তমান সরকারি অভিযানে উপার্জন বন্ধ থাকায় এবং সরকারি কার্ড না থাকায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। স্বেচ্ছাসেবীদের এই খাদ্যপণ্য পাওয়ায় সংসারের টানাটানির দুশ্চিন্তা খানিকটা লাঘব হয়েছে। অন্য জেলে সফিক মাঝি বলেন, নিবন্ধনের অভাবে হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে সরকারি সহায়তা সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকছেন, এমতাবস্থায় সামাজিক সংগঠনগুলোর এই মানবিক সহায়তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

উক্ত খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেন ভোলা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজল কুমার দাস। ইলিশা সমাজ কল্যাণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নজরুল ইসলাম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন, ইলিশা নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান এবং ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই মো. সাইফুল ইসলাম।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নজরুল ইসলাম সুমন তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তাদের সংগঠন এলাকাভিত্তিক দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। সরকারিভাবে অনিবন্ধিত থাকায় যেসকল প্রকৃত জেলে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন, তাদের দুর্দশা লাঘবেই এই বিশেষ খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল কুমার দাস স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি নিজ নিজ এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন, তবে নিষেধাজ্ঞার সময়ে কোনো জেলে পরিবারকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে না।