রাজধানীর গুলশান এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ও রাষ্ট্রবিরোধী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আরও দুই আসামির প্রত্যেকের ৭ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের নরসিংদী জেলার মহিসাসুরা ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ (৪১) এবং একই দলের সক্রিয় কর্মী মো. রফিক (৪০)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের যুক্তি শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এই রিমান্ড আদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর পূর্বে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে উপস্থিত করে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন পেশ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গত মঙ্গলবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল।
উল্লেখ্য, এই একই মামলায় ইতিপূর্বে গ্রেপ্তার হওয়া ২৪ জন আসামিকে গত শনিবার আদালত রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রোববার ৯ জন এবং সোমবার আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর রায় হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার নতুন করে আরও ৭ আসামিকে বিচারিক আদেশে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা, সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অসৎ উদ্দেশ্যে গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবৈধভাবে সমবেত হয়। তারা সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে এবং পর পর একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আশপাশের সাধারণ মানুষের মনে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়ে বাধা দিতে গেলে আতঙ্ক ছড়ানোর লক্ষ্যে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করেও ককটেল ছুড়ে মারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে আসামিরা চারদিকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল আলামত হিসেবে উদ্ধার করে। এই নাশকতার ঘটনায় গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন, যাতে ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়।


























