কঠোর নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে আসনটির মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে একযোগে এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে সকালের দিকে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কিছুটা কম লক্ষ্য করা গেলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যে বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের হাজীপাড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন। ভোট প্রদান শেষে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সন্তোষজনক রয়েছে এবং ভোটগ্রহণে কোথাও কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তিনি শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, এই নির্বাচনে তাঁর বিজয়ী হওয়ার ব্যাপারে তিনি যথেষ্ট আশাবাদী।
অন্যদিকে, এই আসনের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনও ইতিমধ্যে নিজের কেন্দ্র গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। তিনি জানান, মাত্র তো ভোটগ্রহণ শুরু হলো এবং এখন পর্যন্ত সামগ্রिक নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সন্তোষজনক রয়েছে। তিনিও বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভোট দিতে আসা সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবমুখর ও স্বস্তিদায়ক আমেজ। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট প্রদান শেষে আসমা বেগম নামের এক নারী ভোটার জানান, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তিনি নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে দারুণ আনন্দিত। একইভাবে আবুল হোসেন ও নাবিল হোসেন নামের দুই তরুণ ভোটার তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে জানান, জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণের কথা মাথায় রেখেই তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বর্তমান ভোটের পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অনিয়ম ছাড়াই ভোট সম্পন্ন হচ্ছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটাররা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে কেন্দ্রে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি আরও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য কঠোর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। এর পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য ভ্রাম্যমাণ টিম, স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং রিজার্ভ ফোর্স সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আওতাধীন মোট তিনটি উপজেলায় সর্বমোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় রয়েছে ১১৩টি কেন্দ্র, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৮৫৩ জন। নিবন্ধিত মোট ভোটারদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন চারজন। এ ছাড়াও এবারের উপনির্বাচনে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার জন্য সফলভাবে নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন মোট ২৮৭ জন ভোটার; যার মধ্যে ২৪৯ জন পুরুষ এবং ৩৮ জন নারী ভোটার অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত গত ২৯ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শেষে মোট ছয়জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছিল। বৈধপ্রার্থীরা হলেন—বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক। তবে পরবর্তীতে গত ৫ অক্টোবর দলীয় হাইকমান্ডের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে লড়াইয়ে টিকে থাকেন পাঁচজন প্রার্থী। বর্তমানে এই পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে মূলত বিএনপির মির্জা ফয়সল আমিন এবং জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের মধ্যেই মূল ও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।


























