বিশ্বজুড়ে বর্তমানে জাহাজ নির্মাণ শিল্পে এক বিশাল অর্থনৈতিক জোয়ার চলছে। চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মতো দেশগুলো এই খাত থেকে শত শত কোটি ডলার মুনাফা অর্জন করছে। নতুন বাণিজ্যিক রুটের প্রসার, জাহাজের আধুনিকায়ন, কঠোর পরিবেশগত বিধিমালা এবং ধনী শিপিং কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে তারা এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের দীর্ঘ উপকূলীয় এলাকা, সুলভ শ্রম এবং জাহাজ নির্মাণের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও আমরা এই বিশাল অর্থনৈতিক সুযোগ পুরোপুরি হাতছাড়া করছি।
প্রায় দুই দশক আগেই বাংলাদেশ যে বিশ্বমানের বাণিজ্যিক জাহাজ তৈরি করতে সক্ষম, তা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রমাণিত হয়েছিল। দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের এক দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হলেও পুরো খাতটি পরবর্তীতে অতিরিক্ত ঋণ, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির চক্রে জড়িয়ে পড়ে। কার্যকর তদারকির অভাবে সঠিক ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং আর্থিক অনিয়মের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক খাতের ওপর নেমে আসে পাহাড়সম ঋণের বোঝা।
বিশ্ববাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ কতটা বড় সুযোগ হারাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে জাহাজ নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমানে কোটি কোটি টন ক্ষমতার জাহাজের বড় বড় অর্ডার জমা রয়েছে। যার সিংহভাগ অংশীদারিত্বই রয়েছে চীনের দখলে, এবং বাকি অর্ধেকের কাছাকাছি রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের হাতে। নতুন অর্ডারের একটি বিশাল অংশ চীন একাই নিজেদের কব্জায় নিয়েছে।
বৈশ্বিক এই জাহাজ নির্মাণ খাতের রমরমা অবস্থার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে। এর মধ্যে শিপিং কোম্পানিগুলোর রেকর্ড মুনাফা অর্জন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের দূরত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার পরিবেশবান্ধব নতুন বিধিমালা প্রবর্তন অন্যতম প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।


























