বাংলাদেশে সার্বিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, আধুনিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন, লজিস্টিকস খাতের সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলোর আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় গভীর আগ্রহ ব্যক্ত করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তি সিঙ্গাপুর।
গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সিঙ্গাপুর হাইকমিশনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফিলিপ অংয়ের এক বিশেষ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের দপ্তর থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বাংলাদেশে বৈদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্র প্রশস্তকরণ, আন্তর্জাতিক মানের অবকাঠামো নির্মাণ, লজিস্টিকস সেবার মানোন্নয়ন এবং দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা বহুগুণে বৃদ্ধি করার নানা কৌশলগত দিক নিয়ে বিষদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত বন্দর পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘পিএসএ ইন্টারন্যাশনাল’ (PSA International)-এর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বন্দরসমূহের টার্মিনাল সংস্কার, আধুনিকায়ন ও দক্ষ পরিচালনায় তাদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করা হয়।
সৌহার্দ্যপূর্ণ এই বৈঠকে রাষ্ট্রদূত ফিলিপ অং পূর্বের বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব কর্তৃপক্ষকে (পিপিপিএ) আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত করে নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ গঠনের ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী প্রশাসনিক উদ্যোগটির ভুয়সী প্রশংসা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এ ধরনের সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত দ্রুত, সমন্বিত ও ঝামেলাহীন সেবা নিশ্চিতকরণে এক বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করবে।
এই প্রেক্ষাপটে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, একাধিক রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে একীভূতকরণ ও প্রশাসনিক কাজের দ্রুত গতি আনার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। দেশের বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি করতে পর্যায়ক্রমে আরও কিছু প্রাসঙ্গিক সংস্থাকে এই একক ছাতার নিচে যুক্ত করা হতে পারে।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, আগত দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নিবিড় ও কার্যকর লজিস্টিকস সহায়তা নিশ্চিত করা, পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বেসরকারীকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, সব ক্ষেত্রে আধুনিক ডিজিটাল সেবা প্রসার এবং জাতীয় শিল্পের উত্তরোত্তর বিকাশে একটি প্রকৃত সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলাই মূলত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিপক্ষীয় সংলাপে কূটনীতিক ফিলিপ অং বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিকভাবে কাজ করতে এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও ভ্রাতৃত্ব আরও মজবুত করতে সিঙ্গাপুরের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বিদেশি উদ্যোক্তাদের দীর্ঘমেয়াদি আস্থা অর্জনে নীতিগত ধারাবাহিকতা রক্ষা, আইনি স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং একটি সহজ পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
আয়োজিত এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ অবকাঠামো, লজিস্টিকস এবং শিল্প বিপ্লবে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার এক নতুন দ্বারের উন্মোচন করেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো বন্দর টার্মিনাল উন্নয়ন বা পরিচালনার ক্ষেত্রে এখনই কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ চুক্তি কিংবা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






















